এ বছর ৭ হাজার কোটি টাকা মুনাফা চায় বিপিসি

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০১৫, ০১:০৭

আন্তর্জাতিক বাজার থেকে অপেক্ষাকৃত কম দামে জ্বালানি তেল কিনে বেশি দামে বিক্রি অব্যাহত রাখতে চায় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন-বিপিসি। নিকট ভবিষ্যতে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিম্নমুখী থাকার সম্ভাবনার সুযোগে প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন এবং আগের সরকারি ও ব্যাংক ঋণ শোধ করার লক্ষ্যে এ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। চলতি ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তেল বিক্রি থেকে সাত হাজার কোটি টাকা মুনাফা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানটি। ইতিমধ্যে গত জুলাই-সেপ্টেম্বর তিন মাসে সংস্থাটি প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা লাভ করেছে বলে জানা গেছে।

 
জ্বালানি বিভাগ ও বিপিসির একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমলেও দেশের বাজারে তেলের দাম শিগগিরই কমানোর পরিকল্পনা নেই সরকারের। এর আগে ২০১০-১১ থেকে ২০১৩-১৪ অর্থবছরে সরকার জ্বালানি তেলে ৩৩ হাজার ৪৮০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে। তবে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা মুনাফা করেছে বিপিসি। ইতিমধ্যে বিপিসির অর্জিত লাভের অর্থ থেকে দুই হাজার ৫০০ কোটি টাকা অর্থ মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
 
বিপিসি সূত্র জানায়, গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ক্রমশ নিম্নগামী। গত জানুয়ারি থেকে বিশ্ববাজারে কয়েক দফায় তেলের বড় ধরনের মূল্যপতন হয়। গত সপ্তাহে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ৪৪ থেকে ৪৮ ডলারে বিক্রি হয়। ২০০৯ সালের মার্চের পর এই প্রথম জ্বালানি তেলের দাম এত নিচে নেমেছে। তবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কমলেও এখন পর্যন্ত স্থানীয় বাজারে দাম কমায়নি সরকার। এর ফলে গত ডিসেম্বরে লোকসান থেকে বেরিয়ে আয়-ব্যয়ে ভারসাম্য আনে বিপিসি। ১৯৯৯ সালের পর চলতি বছরের জানুয়ারিতে মুনাফায় ফিরে সংস্থাটি। ইতিমধ্যে তেলের মূল্য আরো কমতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। এক্ষেত্রে দেশে তেলের দাম বাড়ানো না হলে বিপিসির লাভ আরো বাড়বে। দেশে সর্বশেষ ২০১৩ সালে মূল্য সমন্বয়ের সময় বাড়ানো হয়েছিল জ্বালানি তেলের দাম।
 
গত জুনে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গত জানুয়ারি থেকে পেট্রোল ও অকটেনে ৬২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফা করেছে বিপিসি। এছাড়া ফার্নেস অয়েলে ৪৮, জেট ফুয়েলে ৩৪, ডিজেলে ২৭ ও কেরোসিনে ২৫ শতাংশ মুনাফা করে সংস্থাটি। এ প্রসঙ্গে বিপিসির চেয়ারম্যান এএম বদরুদ্দোজা বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারের তেলের দাম কয়েক দফা কমে এখন কিছুটা স্থির রয়েছে। এ ধারা বজায় থাকলে বিপিসির মুনাফাও অব্যাহত থাকবে। চলতি অর্থবছরে সরকার জ্বালানি তেলের দাম না কমালে মুনাফার লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
 

প্রসঙ্গত, বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল আমদানিতে খরচ হয় ৫০ টাকা ৬৭ পয়সা; দেশে খুচরা বিক্রি করা হয় ৬৮ টাকা। প্রতি লিটারে লাভ ১৭ টাকা ৩৩ পয়সা। কেরোসিন আমদানিতে খরচ ৫১ টাকা চার পয়সা। বিক্রি করা হয় ৬৮ টাকা। লাভ হয় ১৬ টাকা ৯৬ পয়সা। অকটেন আমদানিতে লিটারপ্রতি খরচ ৬৮ টাকা ৬৯ পয়সা; বিক্রি করা হয় ৯৯ টাকায়। লাভ ৩০ টাকা ৩১ পয়সা। ৩৮ টাকা ৪৪ পয়সা দিয়ে ফার্নেস অয়েল আমদানি করে ৬০ টাকায় বিক্রি করা হয়। লিটার প্রতি লাভ ২১ টাকা ৫৬ পয়সা। জেট-১ আমদানিতে খরচ ৫০ টাকা ৬১ পয়সা আর বিক্রি করা হয় ৬৭ টাকায়।  লিটার প্রতি ১৬ টাকা ৩৯ পয়সা লাভ করে বিপিসি।