প্লুটোতে বরফ

আপডেট : ১১ অক্টোবর ২০১৫, ০১:১০

সৌর পরিবারের নবম এবং বামন গ্রহ হিসেবে পরিচিত প্লুটোর ছবি প্রকাশ করেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এক বছর ধরে তোলা এই ছবিতে বরফের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। সেখানে আছে নীল আকাশ। আছে অন্ধকারাচ্ছন্ন মাঠ এবং বাতাসে উড়ে আসা বালির স্তূপ। বিজ্ঞানীরা জানান, নভোযান নিউ হরাইজনসের পাঠানো প্লুটোর ছবি দেখার পর তারা নিজেরাও বিস্মিত হয়েছেন। খবর বিবিসি ও ডেইলি মেইলের।

 
প্লুটোর আকাশও অনেকটা পৃথিবীর মতো নীলাভ জানিয়ে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ওই স্তরটিকে সূর্যের আলো বিকীর্ণ করে এ রঙের সৃষ্টি করেছে। এর আগে  প্লুটোর সব সাদা-কালো ছবিতে ১শ ৩০ কিলোমিটার উপরে হালকা স্তর ধরা পড়লেও তার রঙ বোঝার উপায় ছিল না। গত ১৪ জুলাই থেকে পাঠানো রঙিন ছবির তথ্য বিশ্লেষণ করে নাসার বিজ্ঞানীরা গত বৃহস্পতিবার তা আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেন।
 
এর আগে গোলাপি আকাশের গ্রহ মঙ্গলে প্রবহমান পানির অস্তিত্বের ইঙ্গিত দিয়েছিল নাসা। পৃথিবী থেকে ৫শ কোটি দূরত্ব অতিক্রম করে প্লুটোর ছবি নিচ্ছে নিউ হরাইজন। প্লুটোর বায়ুমণ্ডলে পৃথিবীর মতোই নাইট্রোজেন প্রধান বায়ুমণ্ডল রয়েছে। তবে মিথেনের উপস্থিতিতে সূর্যালোকের অতি বেগুনি রশ্মির সঙ্গে বিক্রিয়ায় এটি কণার মতো কুয়াশার চাদর তৈরি করতে পারে। 
 
‘এই নীলাভ স্তর আমাদের কুয়াশার সেই চাদরের আকার এবং গঠনের কথা বলবে,’ বলেন নিউ হরাইজনের গবেষক দলের সদস্য কার্লে হোয়েট। তিনি বলেন, প্লুটো থেকে সরাসরি যদি উপরে তাকানো হয়, তবে বায়ুমণ্ডলের কারণে আকাশ কালোই দেখাবে। তবে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় তা দেখাবে নীল। নিউ হরাইজনসের গবেষক দলের প্রধান অ্যালান স্টার্ন বলেন, আমার ধারণা, আমরা এসব ছবি তোলার আগে কোনো শিল্পী যদি প্লুটোর এই দৃশ্য তার তুলিতে তুলে ধরতেন তাহলে সেটাই সেরা বলে ধরা হতো।
 
বিজ্ঞানীরা জানান, প্লুটো আমাদের কাছে ভূমি গঠনের বৈচিত্র্য এবং প্রক্রিয়ার জটিল বিষয়গুলো সামনে এনেছে। আর এটা সৌরজগতে আমরা যা দেখেছি তার চেয়ে ভিন্ন মাত্রার হতে পারে। বামন গ্রহণের বরফের স্তূপ দেখে মনে হয়েছে, কোনো পর্বতাঞ্চল থেকে প্রবাহিত হয়ে এসেছে। নিউ হরাইজনসের জিওলজি, জিওফিজিকস এবং ইমেজিংয়ের প্রধান জেফ মুরের মতে, এর ভূ-পৃষ্ঠ মঙ্গলের মতোই জটিল প্রকৃতির।