শিক্ষার বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে তরুণ প্রজন্ম অগ্রবাহিনী শক্তি হিসেবে কাজ করছে এমন মন্তব্য করে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, 'আধুনিক মানের বাংলাদেশ বিনির্মাণে এই তরুন প্রজন্মই কাজ করছে।' রবিবার বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহাবিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে কৃতি শিক্ষার্থীদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, 'শিক্ষার মূললক্ষ্যই হচ্ছে দেশের পরিবর্তন। সবাই দেশ গঠনে অবদান রাখলে দেশ দারিদ্র্যমুক্ত সোনার বাংলাদেশ হিসেবে গড়ে উঠবে।' প্রচলিত গতানুগতিক শিক্ষার পরিবর্তনের মাধ্যমে শিক্ষার গুণগতমান বৃদ্ধি করে বিশ্বমানের দেশ গঠন করার লক্ষ্যেই শিক্ষানীতি ২০১০ সালে প্রণয়ন করা হয়েছে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন।
নুরুল ইসলাম নাহিদ শিক্ষকদের বেতন কাঠামো নিয়ে আন্দোলনরত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশ্যে বলেন, শিক্ষকদের মর্যাদা ও সম্মান ক্ষুন্ন হবেনা। তাদের সম্মান সবার উপরে, এই বাস্তবতা সকলকে মেনে নিতে হবে। শিক্ষকদের বেতন কাঠামোতে সমতা আনতে সরকার কাজ করছে। শিক্ষকরা সমাজে সম্মানিত। শিক্ষকদের মানমর্যাদা কখনোই প্রশ্নবিদ্ধ নয়। এ বিষয়ে শিক্ষকদের উদ্বেগের কোন কারণ নেই।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের সময়ে শিক্ষকদের বেতন শতকরা ৫১ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ক্ষেত্রে অনেক শিক্ষকের বেতন প্রায় শতভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, এখন থেকে প্রতিবছর শতকরা ৫ ভাগ করে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি পাবে। শিক্ষকদের সর্বোচ্চ স্বার্থ দেখা হবে বলেও তিনি জানান।
মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার্থীদের শিক্ষাসংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে হবে। শিক্ষার সাফল্যের নিয়ামক শক্তি শিক্ষক। শিক্ষক নিবেদিত প্রাণ হলে শিক্ষার উন্নয়ন সম্ভব হবে। কলেজের অধ্যক্ষ মাহবুবা রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. আ আ. ম. স আরেফিন সিদ্দিক, ও প্রকৌশলী দেওয়ান মোহাম্মদ খান জালাল।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষার ভীত তৈরি হয় পরিবার থেকে। মা বাবা, অভিভাবক ও শিক্ষকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার পরেই একজন শিক্ষার্থী যথাযথভাবে নিজের জীবন তৈরি করতে পারে।
বর্তমান সরকার শিক্ষা নিয়ে ব্যাপক পরিকল্পনা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের ৭০টি কলেজের জন্য ভিন্ন ভিন্ন প্রজেক্টে ২০ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এরমধ্যে লাইব্রেরী উন্নয়নে ১ কোটি টাকা ব্যয়,হোস্টেল সম্প্রসারণ ব্যয় ৭৫ লাখ টাকা ও কলেজের ভিত সম্প্রসারণে ৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা নির্মাণ ব্যয় হয়েছে।
প্রতিযোগিতার বিশ্বে দেশেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে তরুনপ্রজন্মকে সঙ্গতিপূর্ণ বিশ্বমানের দক্ষ, যোগ্য করে গড়ে তুলতে হলে শুধুমাত্র জ্ঞান দিয়ে নয়, নৈতিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হয়ে গড়ে উঠতে হবে। ছেলে ও মেয়ের সমসুযোগ নিশ্চিত করতে পারলে দেশ আরও এগিয়ে যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উপাচার্য আরেফিন সিদ্দিক বলেছেন, বাঙালি সংস্কৃতি আমাদের জাতীয় পরিচয়। বাঙালি জাতির সংস্কৃতিতে সম্মৃদ্ধ জাতি। সারা বিশ্বের সাথে বাঙালি জাতির ইতিহাস ও ঐতিহ্য গুরুত্বপূর্ণ। পরে কলেজের বিভিন্ন পর্যায়ের ৮০ জন কৃতি শিক্ষার্থীর মধ্যে ক্রেস্ট ও সনদ বিতরণ করা হয়। বাসস।
