'দুর্যোগ ঝুঁকি প্রশমনে সংশ্লিষ্ট সকলের অংশগ্রহণ জরুরি'

আপডেট : ১২ অক্টোবর ২০১৫, ২২:৪৪
সমন্বিতভাবে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়সহ সকলের অংশগ্রহণ জরুরি। সোমবার রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস উপলক্ষে এক বাণীতে এ কথা বলেন। খবর বাসসের।
 
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মত বাংলাদেশেও যথাযথ গুরুত্বের সঙ্গে ‘আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০১৫’ পালিত হচ্ছে বলে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তৃণমূল পর্যায়ে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগকে তিনি স্বাগত জানান।

আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস-২০১৫’ এর প্রতিপাদ্য ‘জ্ঞানই জীবন’ খুবই বাস্তবধর্মী ও সময়োপযোগী বলে রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন। 
 
রাষ্ট্রপতি বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্ধ করা সম্ভব নয়, কিন্তু জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং পূর্ব প্রস্তুতি গ্রহণের মাধ্যমে যে কোন দুর্যোগে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি সহনীয় পর্যায়ে রাখা সম্ভব। 
 
তিনি বলেন, ভৌগোলিক অবস্থান, প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জনসংখ্যার আধিক্য বাংলাদেশকে বিশ্ব মানচিত্রে অন্যতম প্রধান দুর্যোগপ্রবণ দেশ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। সিসমিক জোনে বাংলাদেশের অবস্থানের কারণে বড় ধরনের ভূমিকম্পের আশঙ্কা থেকেও দেশ ঝুঁকিমুক্ত নয়। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদী ভাঙন, কালবৈশাখী, টর্নেডো, অতিবৃষ্টি, পাহাড়ধস, ভবনধস, পাহাড়ি ঢল, বজ্রপাত ইত্যাদি প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা করেই বাংলাদেশকে এগিয়ে যেতে হচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবেও নানামুখী দুর্যোগের সৃষ্টি হচ্ছে। তাই দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট দুর্যোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়াতে হবে। 
 
রাষ্ট্রপতি বলেন, সমন্বিতভাবে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও দুর্যোগে সাড়াদানকল্পে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সরকারি ও বেসরকারি সংস্থার পাশাপাশি সুশীল সমাজসহ সকল স্তরের জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ জরুরি। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের সক্ষমতা এখন বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হচ্ছে।
 
তিনি আশা প্রকাশ করেন ভবিষ্যতে এ সক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে এবং দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে দুর্যোগকালীন দুর্ভোগ ও ক্ষয়ক্ষতি হ্রাস করা সম্ভব হবে।