ভারতে সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠিত সাম্প্রদায়িক বিভিন্ন ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করলেও সেগুলোর কোনো দায় নিতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আনন্দবাজার পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাতকারে বলেন উত্তর প্রদেশে গরুর মাংস খাওয়ার অভিযোগে হত্যা ও সংগীত শিল্পী গুলাম আলিকে কনসার্ট করতে না দেওয়ার ঘটনায় তিনি দুঃখিত তবে এটাতে তার বা বিজেপি সরকারের কোনো ভূমিকা নেই।
দাদরিতে গরুর মাংস খাওয়ার সন্দেহে হত্যাকাণ্ড, লেখক এম এম কালবার্গির হত্যা, পাকিস্তানি শিল্পী গুলাম আলিকে মুম্বাইয়ে অনুষ্ঠান করতে না দেওয়া, প্রাক্তন পাক বিদেশমন্ত্রী খুরশিদ মেহমুদ কাসুরির বইপ্রকাশ অনুষ্ঠানে যেতে চাওয়ার প্রতিবাদে সুধীন্দ্র কুলকার্নির মুখে কালি মাখিয়ে দেওয়া— হিংসা ও অসিষ্ণুতার ঘটনাস্রোতের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী চুপ কেন, এই অভিযোগ বারবার উঠেছে। ভারতে তার বিরোধীদের অভিযোগ, যে মোদী ছোট-বড় সব ঘটনা নিয়েই টুইটারে মন্তব্যের বন্যা বইয়ে দেন, তার নীরব থাকাটা আসলে বৃহত্তর কৌশলের অঙ্গ।
বিহার ভোটকে সামনে রেখে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ উস্কে দিতে চান তিনি ও তাঁর দল। তবে মোদি এইসব অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেন, দাদরির ঘটনা বা পাকিস্তানি সঙ্গীতশিল্পীর বিরুদ্ধাচারণের ঘটনা দুঃখজনক, অনভিপ্রেত। কিন্তু এই ঘটনাগুলতিে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকাটা কী? আনন্দবাজারের সঙ্গে সাক্ষাতকারে তার ও বিজেপির বিরুদ্ধে ওঠা সাম্প্রদায়কিতার অভিযোগ উড়িয়ে মোদী বলেন, ‘বিজেপি কখনওই এই ধরনের ঘটনাকে সমর্থন করে না। এগুলিকে সামনে এনে প্রতিপক্ষরা বিজেপির বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িকতার অভিযোগ তুলছেন বটে, কিন্তু এর মাধ্যমে তাঁরাই কি আসলে মেরুকরণের রাজনীতি করছেন না?’ মোদীর দাবি, সেই দলগুলিই এ ব্যাপারে প্রচার শুরু করেছে, যারা সংখ্যালঘুর উন্নয়ন চায় না, তাঁদের ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে দেখতে চায়। তিনি বলেন, অতীতেও এই বিতর্ক হয়েছে। বিজেপি চিরকাল মেকি ধর্মনিরপেক্ষতার বিরোধিতা করেছে। আজ এই দুঃখজনক সামাজিক ব্যাধির মুখোমুখি হয়ে আবার সেই বিতর্ক উঠে এসেছে। আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এই বিতর্কের নিরসন সম্ভব।
