‘যানজট নিরসনে রাজধানীতে চালু হবে সার্কুলার ট্রেন’

আপডেট : ১৪ অক্টোবর ২০১৫, ১৯:০৪

রেলপথ মন্ত্রী মো. মুজিবুল হক বলেছেন, যানজট নিরসনের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে ঢাকা মহানগরীতে সার্কুলার ট্রেন চালুর জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে। বর্তমানে প্রকল্পটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। অর্থপ্রাপ্তি সাপেক্ষে এই রেলপথ নির্মাণের কাজ শুরু হবে। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘বাংলাদেশ রেলওয়ের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা’ শীর্ষক মিট দ্য রিপোর্টার্স অনুষ্ঠানে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।


বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (ক্রাব) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ইশারফ হোসেন ঈসার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি শাখাওয়াত হোসেন বাদশা, ঢাকা বহুমুখী সমবায় সমিতির সভাপতি মাহমুদুর রহমান খোকন ও ক্রাবের সাধারণ সম্পাদক বক্তৃতা করেন।

রেলপথ মন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুতে রেল সংযোগ দেয়ার জন্য ঢাকার গেন্ডারিয়া থেকে মাওয়া এবং জাজিরা থেকে ভাঙ্গা পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আমাদের লক্ষ্য পদ্মা সেতুতে যানবাহন চলাচলের প্রথম দিনেই ট্রেন চালু করা। সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। তিনি বলেন, আগামী জানুয়ারি মাস থেকে ১২০টি ব্রডগেজ কোচ ও ১৫০টি মিটারগেজ কোচ দেশে আসতে শুরু করবে। এছাড়া ৭০টি রেলওয়ে ইঞ্জিন আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যেই ইঞ্জিন আবার ব্যাপারে টেন্ডার হয়েছে। এখন তা যাচাই-বাছাই চলছে।

মন্ত্রী বলেন, ঢাকা থেকে কুমিল্লা-লাকসাম হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত দ্রুতগামী ট্রেন চালুর জন্য এক্সপ্রেসওয়ে রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এছাড়া আখাউড়া থেকে লাকসাম পর্যন্ত ডাবল লাইন নির্মাণের জন্য টেন্ডার করা হয়েছে। এখন তার মূল্যায়ন কাজ চলছে। তিনি বলেন, কাশিয়ানি থেকে গোপালগঞ্জ পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণ করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ রেলপথ নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করবেন।

মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রেলওয়ে যাত্রীসেবার মান উন্নয়ন করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বিএনপি’র নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোটের শাসনামলে রেলওয়ে অবহেলিত ছিল একথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের সময় রেলওয়ের উন্নয়নে বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, আগামী ৩ বছরে এ সকল প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। তখন রেলওয়ের উন্নয়নের কাজ দৃশ্যমান হবে।

তিনি বলেন, আমরা রেলওয়ের উন্নয়ন কাজকে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পন্ন করার চেষ্টা করছি। তিনি বলেন, টঙ্গী থেকে ঢাকা পর্যন্ত তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন, ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ ডাবল লাইন এবং টঙ্গী থেকে জয়দেবপুর পর্যন্ত ডাবল লাইন নির্মাণ করা হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে দেশের সকল রেলপথ ডাবল লাইনে উন্নীত করা হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রেলওয়ের অবৈধ দখলে থাকা জমি দখলদারদের কাছ থেকে উদ্ধারের জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। তিনি বলেন, অবৈধ জমি উদ্ধার চলমান প্রক্রিয়া। তিনি জানান, রেলওয়েতে শূন্য পদে জনবল নিয়োগ করা হচ্ছে এবং আগামী এক বছরে আরো শূন্য পদে লোক নিয়োগ করা হবে। তিনি বলেন, রেলওয়ের সেবার মান উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যাত্রীদের সেবা প্রদান করাই হচ্ছে রেলওয়ের মূল লক্ষ্য। ফোকাস বাংলা।