নতুন ভোটারদের বাদ রেখে স্থানীয় সরকারের পৌরসভা নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সারাদেশের ৩২৩টি পৌরসভার মধ্যে ডিসেম্বরের ২৪৬টি নির্বাচন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। ফলে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ নতুন ভোটার পৌরসভার নির্বাচনে ভোটারাধিকার থেকে বঞ্চিত হবেন। তবে ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচন হলে ভোট দিতে পারবেন নতুন ভোটাররা।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ জানিয়েছেন, ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে আড়াইশোর মতো পৌরসভায় নির্বাচন হবে। কারণ, আইন অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যেই নির্বাচন করতে হবে। আর এই নির্বাচন হবে দলীয় প্রতীক নিয়ে। তবে নির্বাচন একদিনে নাকি একাধিক দিনে করা হবে-সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি।
নতুন ভোটার বাদ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইসি সচিবালয়ের সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম ইত্তেফাককে বলেন, যাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে তারা এখনো ভোটার হননি। আগামী ৩১ জানুয়ারির পর তারা ভোটার হবেন। ফলে বিদ্যমান ভোটার দিয়েই আমাদের পৌরসভার নির্বাচন করতে হচ্ছে। কারণ ফেব্রুয়ারির মধ্যে আইনানুযায়ী পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। কিন্তু ৩১ জানুয়ারির পর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে ওই ভোটার তালিকা দিয়েতো ফেব্রয়ারিতে নির্বাচন করা সম্ভব নয়।
ইসির সংশ্লিষ্ঠরা জানিয়েছেন, বিগত কয়েকটি ভোটার তালিকা হালনাগাদে সারাদেশে সাড়ে ৪ শতাংশ ভোটার বেড়েছে। আর প্রতি বছরেই নতুন ভোটার পাওয়া যায় ২৩ লাখের মতো। তবে দেশের ৩২৩টি পৌরসভায় প্রায় সোয়া কোটি থেকে দেড় কোটি ভোটার রয়েছে। আর ডিসেম্বরের মধ্যে যে ২৪৬টি পৌরসভার নির্বাচন করা হবে-সেখানে ভোটার আছে এক কোটির মতো। শতকরা সাড়ে ৪জন ভোটার বাড়লে এককোটি ভোটারের মধ্যে নতুন ভোটার থাকবে সাড়ে ৪ লাখের মতো। একমাস আগে ইসির নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্তের কারণেই নতুন সাড়ে ৪ লাখ ভোটার পৌরসভার নির্বাচনে ভোট দেয়া থেকে বঞ্চিত হবেন। পক্ষান্তরে আগামী মার্চে সারাদেশের ৪ হাজার ৫৫৩টি ইউনিয়ন পরিষদে ধাপে ধাপে নির্বাচন হবে। তাতে ১৫ লাখের মতো নতুন ভোটাররা ভোট দিতে পারবেন। অথচ ২৫ জুলাই থেকে একইভাবে নতুন সব ভোটারের তথ্য সংগ্রহ করার পরও সাড়ে ৪ লাখ ভোটার পৌরসভায় ভোট দিতে পারছেন না।
ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী চলতি বছরের ডিসেম্বরেই অনুষ্ঠিত হবে পৌরসভার নির্বাচন। বিদ্যমান ভোটার তালিকা দিয়ে এ নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। গত ১৭ জুন স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে পৌরসভাগুলো আলাদা তালিকা ও মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভার তালিকা নির্বাচন কমিশনে (ইসি) পাঠানো হয়েছে। সর্বশেষ নির্বাচনের তারিখ, প্রথম সভা অনুষ্ঠানের তারিখ ও মেয়াদোর্ত্তীণের তারিখ দিয়ে দেশের ৩২৩টি পৌরসভার তালিকা দিয়েছে সরকার। এরমধ্যে ২০১১ সালে জানুয়ারিতে ২৪০টি পৌরসভার ভোট হয়েছে। সীমানা ও আদালতের আদেশে ১৩টি পৌরসভার নির্বাচন তখন হতে পারে নি। এবার এসব পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠানে কোনো বাধা নেই বলেও তালিকায় উল্লেখ করা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ পৌরসভা বা কিংবা কাছাকাছি সময়ে মেয়াদ শেষ হবে এমন পৌরসভার ভোটগ্রহণ দফায় দফায় না করে এক দিনে করার পরিকল্পনা করেছে ইসি।
২০১১ সালে বিগত এটিএম শামসুল হুদার নেতৃত্বাধিন নির্বাচন কমিশন ২৮৫টি পৌরসভা নির্বাচন আয়োজন করেছিল। ওই বছরের ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে অধিকাংশ পৌর নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে ১২ জানুয়ারি ৭৭টি, ১৩ জানুয়ারি ৪৭টি, ১৭ জানুয়ারি ৪৫টি এবং ১৮ জানুয়ারি ৩৫টি পৌরসভার নির্বাচন সম্পন্ন হয়। বাকী পৌরসভার নির্বাচন পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হয়। জানুয়ারিতে নির্বাচনের পর ওই পৌরসভাগুলোর প্রথমসভা অনুষ্ঠিত হয়েছিল ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে। এ হিসাবে নভেম্বরের পর থেকে নির্বাচনী সময় কাউন-ডাউন শুরু হবে।
মেয়াদের ক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এ বলা আছে, পৌরসভা গঠনের পর প্রথমসভার তারিখ থেকে পরবর্তি ৫ বছর পর্যন্ত উক্ত পৌরসভার মেয়াদ থাকবে। নির্বাচনের ক্ষেত্রে আইনে উল্লেখ রয়েছে, পৌরসভার মেয়াদ শেষ হওয়ার ক্ষেত্রে, উক্ত মেয়াদ মেষ হওয়ার পূর্ববর্তি ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
