ভারতীয় সুপারস্টার শচীন টেন্ডুলকারের মতই ঘরের মাঠের দর্শকদের সামনেই ক্যারিয়ারের ইাত টানতে চান পাকিস্তানের রেকর্ড ভঙ্গকারী টেস্ট ব্যাটসম্যান ইউনিস খান।
এ সম্পর্কে ইউনিস বলেছেন, ভারতে যেমনভাবে টেন্ডুলকার ঘরের মাঠে নিজেদের সমর্থকদের সামনে শেষ টেস্ট খেলেছেন আমারও তাই ইচ্ছা। টেন্ডুলকারের সৌভাগ্য হয়েছিল বিদায়বেলায় পরিবার, আত্মীয়স্বজন, বন্ধু, কোচ সবাই তার সামনে উপস্থিত ছিলেন। আমি ঠিক সেই অনুভূতিটাই নিতে চাই। আমি মনে করি ক্যারিয়ারের ইতি টানার সময়টা এর থেকে ভাল কিছু আর হতে পারেনা। এখানে মূল বিষয় হচ্ছে গত ছয় বছর ধরে আমরা ঘরের মাঠে ক্রিকেট খেলা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি যা খুবই দু:খজনক। এর পরিবর্তন জরুরী। কখনো সুযোগ হলে আমি আমার শেষ ম্যাচটা পাকিস্তানের মাটিতেই খেলতে চাই।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে আবু ধাবীতে অনুষ্ঠিত চলমান প্রথম টেস্টে সাবেক অধিনায়ক জাভেদ মিয়াঁদাদের ২৩ বছরের পুরোনো রেকর্ড ভেঙ্গে ৩৭ বছর বয়সী ইউনিস পাকিস্তানের হয়ে সর্বোচ্চ টেস্ট রান সংগ্রহের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন। ইউনিস বলেন সব পেশাদার ক্রিকেটারই তার নিজের দেশে খেলতে যতটা পছন্দ বরেন তা বিশ্বের অন্য কোথাও পাওয়া যায়না। দূর্ভাগ্যবশত: পরিস্থিতির কারনে আমরা সেই স্বাদ পাচ্ছি না। আমি সহজে কাঁদি না, কিন্তু যদি আমার নিজ দেশের সমর্থকদের সামনে অবসরের সুযোগ হয় তবে আমি অবশ্যই কাঁদবো।
প্রথম পাকিস্তানী ক্রিকেটার হিসেবে টেস্ট ক্রিকেটে ১০ হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করার একটি সুপ্ত বাসনাও রয়েছে ইউনিসের মনে। বিশেষ করে এই উপমহাদেশে ভারত ও শ্রীলংকান ব্যাটসম্যানদের এই মাইলফলক স্পর্শ করার বিষয়টি তাকে সবসময়ই অনুপ্রানীত করে। পাকিস্তানী হিসেবে তিনিও বিশ্ব ক্রিকেটে এই অবদান রাখতে চান। খুব শিগগিরই ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কোন ইচ্ছা তার নেই। এটা তিনি আগেও বলেছেন, বিশেষ করে যতদিন ফিট থাকা যায় ও ক্রিকেটকে উপভোগ করা যায় ততদিনই তিনি খেলা চালিয়ে যেতে চান। তার মতে, কেউই আগে থেকে বলতে পারেনা আগামীকাল বা আগামী সপ্তাহে কি ঘটবে। কিন্তু আমার ইচ্ছা টেস্টে ১০ হাজার রানের কোটা পূর্ণ করা ও নিজের জন্য নয় দেশের জন্য আরো বেশী সেঞ্চুরি করা।
কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান মিয়াঁদাদের রেকর্ড ভঙ্গ করলেও তার সাথে কোন তুলনা করতে রাজী নন ইউনিস। এ সম্পর্কে ইউনিসন বলেন, আমি তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি। ক্রিকেট ব্যাগ গোছানো থেকে শুরু করে কোন পিচে কিভাবে নিজেকে মানিয়ে নিতে হবে সব টিপসই তিনি দিয়েছেন। তিনিও আমার ওপর সবসময়ই আস্থা রেখেছেন। বাসস।
