কাল্পনিক কাহিনী নিয়ে 'বজরঙ্গি ভাইজান' চলচ্চিত্রটি নির্মিত হলেও বাস্তবেই ভারতের মুক ও বধির গীতা হারিয়ে যাওয়ার প্রায় এক দশক পর নিজ দেশে ফিরতে চলেছেন। কোনভাবে সীমান্ত পেরিয়ে পাকিস্তানে ঢুকে পড়েছিল সে।
টুইট বার্তায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ জানিয়েছেন, 'গীতাকে শিগগিরই ভারতে ফিরিয়ে আনা হবে। আমরা তার পরিবারকে চিহ্নিত করেছি। ডিএনএ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পর তাকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।'
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ জানিয়েছেন, পিতামাতার ছবি দেখে চিনতে পেরেছে সে। তবে সম্পর্ক নিশ্চিত হওয়ার জন্য তাদের ডিএনএ পরীক্ষা করা হবে।
গত ১৩ বছর ধরে সে পাকিস্তানে রয়েছে। এখন তার বয়স ২৩ বছর। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তার তত্ত্বাবধান করছে। সেখানেই তার নাম রাখা হয় গীতা।
বজরঙ্গি ভাইজান মুক্তি পাওয়ার পর গীতার করুণ গল্প উঠে আসে গণমাধ্যমে। এর পরই তাকে ভারতে ফিরিয়ে আনতে তড়িৎ পদক্ষেপ নেয়ার ঘোষণা দেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী সুষমা স্বরাজ।
জানা গেছে, হারিয়ে যাওয়ার পর প্রথমে পাকিস্তানের লাহোরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল গীতাকে। পরে করাচিতে একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রে রাখা হয় তাকে।
শ্রবণ ও বাক প্রতিবন্ধী হওয়ায় গীতাকে ভারতে ফেরানোর সব চেষ্টা বিফলে গিয়েছিল তখন। কথা বলতে না পারলেও ভারতের মানচিত্র দেখে কান্নায় ভেঙে পড়তো সে। প্রথমে ঝাড়খণ্ড রাজ্যের দিকে ইশারা করলেও পরে সে তেলেঙ্গানা রাজ্যকে দেখিয়েছিল। আগের কোনোকিছুই নির্দিষ্টভাবে তার কাছ থেকে জানা যায়নি। তবে ইশারায় সে জানায় তারা মোট সাতভাই ও চারবোন।
প্রথমদিকে ভারতীয় দূতাবাস থেকে গীতার ছবি তুলে নিয়ে গেলেও পরে আর কোনো খবর দেওয়া হয়নি। এক ভারতীয় সাংবাদিক গীতার সাক্ষাত্কার নিলেও তারপর আর কিছু জানা যায়নি। পাকিস্তানে হিন্দু ছেলে দেখে তার সঙ্গে বিয়ে দিয়ে সংসার পাতার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছিল গীতা। ইশারায় বুঝিয়েছে বাড়ি না ফিরে কোনোভাবেই বিয়ে করবে না সে।
বজরঙ্গি ভাইজানের মতো কেউ পাকিস্তান থেকে ভারতে এসে গীতাকে তার পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দিবেন, এমনটাই চাইছিলেন পাকিস্তানে গীতার দেখভাল করা লোকজনেরা। এর পর ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নজরে পড়ায় পরিবারের কাছে ফেরার স্বপ্ন বাস্তব হতে চলে গীতার। সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
