কলকাতার ‘রাজকাহিনী’ নাড়িয়ে দিয়েছে মুম্বাই সিনেপাড়া। সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সিনেমাটি মুম্বাইয়ে বিশেষ প্রদর্শনী শেষে পূজা ভাট, ইমতিয়াজ আলী, বিদ্যা বালানের মতো জনপ্রিয় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।
‘রাজকাহিনী’ ভারতীয় বাংলা দৈনিক এই সময়কে অভিনেত্রী ও নির্মাতা পূজা ভাট বলেছেন, ‘গতকাল রাতে সিনেমাটা দেখেছি। সারারাত ঘুমোতে পারিনি। কে জানে কেন, ছবিটা ক্রমশ মাথার মধ্যে চেপে বসছে! ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক কূটনৈতিক সম্পর্কের নিরিখে ‘বাজরঙ্গি ভাইজান’ যদি এই সময়ের গুরুত্বপূর্ণ ছবি হয়, তা হলে সেই নিরিখে ‘রাজকাহিনী’ ও অবশ্যই দেখতে হবে। আঞ্চলিক, নির্দিষ্ট ধারার দর্শকদের জন্য- এ রকম কোনো শব্দ আমি ‘রাজকাহিনী’র সঙ্গে জুড়তে পারছি না। ‘রাজকাহিনী’ ভারতীয় সিনেমা।’
চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক সুধীর মিশ্র বলেন, ‘রাজকাহিনীর প্রভাব অন্য মাত্রায়। ছবির যে বক্তব্য, সেটা আমি এখনই বলে দিতে চাই না, দর্শক সিনেমাহলে গিয়ে জানলেই ভালো, কিন্তু এটুকু বলবো, সেই বক্তব্য উপলব্ধি করার পরই ভেতরে-ভেতরে একটা ছটফটানি হতে পারে।’
‘যাব উই মেট’ খ্যাত পরিচালক ইমতিয়াজ আলি বলছেন, ‘দেশভাগ, ভারত-পাকিস্তান হওয়ার ঘটনাটা আমাদের দেশের ইতিহাসের একটা উচ্চকিত অধ্যায়। ‘রাজকাহিনী’ উচ্চস্বরে সেই উচ্চকিত অধ্যায়ের প্রতিবাদ জানিয়েছে। দেশভাগ নিয়ে তত্কালীন দ্বিচারিতার মোটেও বাহক হয়নি ‘রাজকাহিনী’, বরং, নির্ভীকচিত্তে তা প্রত্যাখ্যান করেছে। এমন একটা দৃঢ় ছবি, যা আমাকে ভাবিয়েছে। এই কাহিনিটা মানুষের শোনা দরকার, তাই আমি চাইবো মানুষ ছবিটা দেখুন। সৃজিতকে ধন্যবাদ, ‘রাজকাহিনী’ তৈরির জন্য। অভিনেত্রীদের কাজ অসাধারণ, এটা আলাদা উল্লেখের দাবি রাখে।’
‘ডার্টি পিকচার’ খ্যাত অভিনেত্রী বিদ্যা বালান বলেন, ‘‘আমি ‘রাজকাহিনী’ দেখে চমকে গিয়েছি। খুবই শক্তিশালী এবং অনন্য একটা ছবি। কারণ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে মনে হয়, যখন একটা ছবি সম্পর্কে মাথার মধ্যে ভাবনা আসতে থাকে, তখন সেই ছবিকে ঠিক হূদয় দিয়ে অনুভব করতে পারি না। আবার যখন একটা ছবি হূদয় ছুঁয়ে যায়, তখন মাথার মধ্যে ভাবনা চিন্তা বন্ধ হয়ে যায়! কিন্তু ‘রাজকাহিনী’ দেখার সময় দুরকমই হল।’’
