থেমে নেই গরু পাচারকারীরা

আপডেট : ১৭ অক্টোবর ২০১৫, ১৫:৩০
ভারতে গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে চলমান বিতর্কের মধ্যেও থেমে নেই পাচারকারীরা। টাইমস অব ইন্ডিয়ার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিএসএফ শুধু এই বছরে এখন পর্যন্ত ২৩ হাজার ৭০০ গরু বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে আটক করেছে।
 
 
 ভারতের প্রভাবশালী দৈনিকটি নিজস্ব সূত্রের বরাত দিয়ে জানায়, বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের এই অবৈধ ব্যবসা এখন বেশ লোভনীয় পেশায় পরিণত হয়েছে।  কারণ ভারতের বাজারে যে গরুর দাম পাওয়া যাবে ৩০ হাজার রূপি, সেটার দাম সীমান্তে পাওয়া যাচ্ছে ৬০ হাজার রূপি। শুধু তাই নয়, মাঝারি মাপের বাছুরও বিক্রি হচ্ছে প্রায় দ্বিগুণ দামে। উত্তর প্রদেশ, হরিয়ানা, বিহার, ছত্তিশগড়  থেকে বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী প্রদেশ আসামে গরু নিয়ে আসছে পাচারকারীরা। বিভিন্ন প্রদেশ থেকে আসা এসব পশু ট্রাকে করে শ্রীরামপুর দিয়ে নিয়ে আসা হয় এবং পুঠিমারী-হাজীর হাট-ফকিরগঞ্জ রুট দিয়ে তাদের পার করা হয়। আসাম-বাংলাদেশ সীমান্তের ধুবড়ি জেলা হয়ে উঠেছে গরুপাচারকারীদের অঞ্চল। 
 
 সাধারণত ৩০ টি গরুকে এক সঙ্গে বেধে ছেড়ে দেওয়া হয় নদীতে। সেই গরুগুলো সাঁতরে বাংলাদেশের কুড়িগ্রাম সীমান্তে উঠে আসে। তারপর বাংলাদেশ সীমান্তে থাকা পাচারকারী দলের সদস্য গরুগুলোর দায়িত্ত্ব বুঝে নেয়। প্রত্যেকটি গরুর পিঠে বিশেষ একটি সংখ্যা থাকে যা দেখে নিজেদের গরু চিহ্নিত করতে পারে কালোবাজারিরা।
 
 
এই বছর শুধুমাত্র আসামের ধুবড়ি জেলা থেকে থেকে ১৬ হাজার ১০০ গরু আটক করেছে বিএসএফ। এছাড়া কুচবিহার সীমান্তে ৬ হাজার ৭০০ ও ফালাকাটা থেকে ৯০০ গরু আটক করা হয়েছে। ধুবড়ির পুলিশ সন্দেহ করে ইসলামি মৌলবাদীরা এই গরুপাচারকারী চক্রের সঙ্গে যুক্ত। স্থানীয় এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, গত বছর আসাম পুলিশ ১৭ জন জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করে। তদন্তের সময় দেখা যায় তাদের কাছে ভুয়া ভারতীয় মূদ্রা ছিল। তাদের কারো কারো গরুপাচারকারী হওয়ারও রেকর্ড পাওয়া গেছে। টাইমস অব ইন্ডিয়া।