হাঙ্গেরির কর্তৃপক্ষ ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দেবার পর মধ্যপ্রাচ্য, এশিয়া ও আফ্রিকা থেকে আসা শত শত অভিবাসী এখন বাসে চড়ে স্লোভেনিয়ায় আসতে শুরু করেছে। শুক্রবার মাঝরাতে হাঙ্গেরি কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে তাদের সীমানা বন্ধ করে দেয়।
এদিকে তুরস্কের উপকূলে গতকাল শনিবার নৌকাডুবিতে ১২ শরণার্থীর মৃত্যু হয়েছে। খবর বিবিসি ও এএফপি’র।
এই অভিবাসীরা হাঙ্গেরির ভেতর দিয়ে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলোয় বিশেষত অস্ট্রিয়া ও জার্মানিতে যেতে চাইছে। হাঙ্গেরি সীমান্ত বন্ধ করে দেবার পর ক্রোয়েশিয়া জানায়, তারা এখন শরণার্থীদের স্লোভেনিয়ার দিকে পাঠিয়ে দেবে।
শরণার্থীরা যাতে গ্রিসে ঢুকতে না পারে সেজন্য হাঙ্গেরি চেয়েছিল যেন ইউরোপীয় ইউনিয়ন সীমান্তে নিরাপত্তা বাহিনী পাঠায়। কিন্তু এই বিষয়ে ইউরোপীয় নেতারা শুক্রবার একমত হতে পারেনি। এরপরই হাঙ্গেরি তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দেয়।
দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তাদের এই পদক্ষেপই যে সবচেয়ে ভালো ব্যবস্থা, তা নয়। তবে এই মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার সাথে সীমান্ত বন্ধ করে দেয়াকে দ্বিতীয় সর্বোত্তম ব্যবস্থা হিসেবে তিনি বর্ণনা করেছেন। হাঙ্গেরি এর আগেই সার্বিয়ার সাথে তাদের সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছিল।
এর আগে তুরস্ক জানিয়েছে, শরণার্থীদের বিষয়ে ইউরোপীয় নেতারা তুরস্কের সঙ্গে একটি যৌথ পরিকল্পনা গ্রহণের জন্য একমত হলেও সেটি চূড়ান্ত হয়নি। শরণার্থীদের আশ্রয় দেবার ব্যাপারে তুরস্ক যদি বড় ভূমিকা নেয় তাহলে তার বিনিময়ে দেশটিকে কিছু সুবিধা দেবার বিষয়ে একমত হয়েছিলেন ইউরোপীয় নেতারা। এগুলোর মধ্যে আছে তুরস্কের নাগরিকদের জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিসা সহজ করা এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নে তুরস্কের অংশগ্রহণের আলোচনা জোরদার করা। এছাড়া তুরস্ককে আরো আর্থিক সহায়তা করা।
এদিকে সিরীয় শরণার্থীদের বিষয়ে ইউরোপের ভূমিকার কড়া সমালোচনা করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়েপ এরদোয়ান।
তিনি বলেন, ‘তারা (জার্মানি) প্রতিবছর ত্রিশ থেকে চল্লিশ হাজার শরণার্থী নেবার কথা বলেছিল। সে কারণে নোবেল পুরস্কারের জন্য তারা মনোনীত হয়েছিল।’ এরদোয়ান উল্লেখ করেন তুরস্ক ২৫ লাখ শরণার্থীকে আশ্রয় দিলেও সেটি নিয়ে কেউ কথা বলছে না।
