পররাষ্ট্র মন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী বলেন, উত্তরাঞ্চল কেন্দ্রিক ভারত-নেপালসহ আঞ্চলিক এবং আন্তর্জাতিক বিমান ও রেল নেটওর্য়াক গড়ে তুলতে কাজ করছে সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রী রবিবার দুপুরে রাজধানীর ইস্কাটনে অফিসার্স ক্লাব মিলনায়তনে রংপুর বিভাগ সাংবাদিক সমিতির নব-নির্বাচিত কমিটির অভিষেক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, সরকার ইতিমধ্যে সৈয়দপুর বিমান বন্দরকে আঞ্চলিকসহ আন্তর্জাতিক মানের একটি বিমান বন্দর হিসাবে গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। একই সঙ্গে ভারতসহ আঞ্চলিক নেটওর্য়াকের সঙ্গে রেল যোগযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে কাজ করছে। দিনাজপুর-লালমনিরহাট দিয়ে ভারতে রেল লাইন নেটওর্য়াক তৈরি হচ্ছে। সৈয়দপুর ও পাবর্তীপুর রেলওয়ে ওর্য়াকশপ আধুনিকায়ন করা হবে।
সংগঠনের সভাপতি কেরামতউল্লাহ বিপ্লবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদ, সাবেক বানিজ্য মন্ত্রী ও জাপা প্রেসিডিয়াম সদস্য জিএম কাদের, এলজিআরটি প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা, বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক সেনা প্রধান লে.জে. (অব.) মাহাবুবুর রহমান ও সাবেক সচিব আবু আলম শহীদ খান প্রমুখ।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, সরকার লালমনিরহাট জেলায় বিকল্প আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর গড়ে তোলার জন্য কাজ করছে। এসব উদ্যেগের কারনে উত্তরাঞ্চলের গুরুত্ব অনেক বৃদ্ধি পাবে। তিনি বলেন, সরকারের এসব পদক্ষেপের কারনে উত্তরবঙ্গকে আর পিছিয়ে পড়ার এলাকা হিসাবে চিহ্নিত করা উচিৎ হবে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রী বলেন, দেশ আজ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। ফলে বাংলাদেশ থেকে এখন খাদ্য রফতানি করা হচ্ছে। সম্প্রতি নেপাল ভূমিকম্পের সময়ে বাংলাদেশ সরকার নেপালকে ১০ হাজার মেট্রিক টন চাল প্রেরন করে। সাবেক রাষ্ট্রপতি এরশাদ বলেন, 'সরকারের তৎপরতার কারণে দেশের বৃহত্তর রংপুর থেকে মঙ্গা দুর হয়েছে। দেশে আর কোন মঙ্গা নেই। উত্তবঙ্গের লোক এখন গ্যাস চায়।'
এরশাদ বলেন, রংপুর বিভাগ ঘোষনা করার পরে রংপুর বিভাগে সরকার অনেক উন্নয়ন কর্মকাণ্ড করছে। এত করে রংপুর বিভাগের মানুষের উন্নয়ণ ঘটছে। রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ায় বৃহত্তর রংপুর ও দিনাজপুর এলাকার মানুষের মধ্যে শিক্ষার হার বাড়ছে। কর্মসংস্থান বাড়ছে। তিনি বলেন, 'রংপুরের জনগন ১৯৯১ সালে আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করার কারনেই আমি ফাঁসির হাত থেকে রেহাই পাই। তাই রংপুরের জনগনের কাছে আমার অনেক ঋন রয়েছে। আমি তাদের এই ঋন শোধ করে যেতে চাই।'
প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উত্তরবঙ্গের প্রতি বিশেষ দৃস্টি রয়েছে। ফলে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নে আমাদের কাজ করতে বেগ পেতে হবে না।
