টাঙ্গাইল-৪ উপনির্বাচনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি কাদের সিদ্দিকীর প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রবিবার নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানি শেষে এ রায় দেয় কমিশন। একই সঙ্গে তার স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকীর আপিলও খারিজ করা হয়েছে। তবে তারা এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যেতে পারবেন। ঋণ খেলাপির কারণে দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।
রবাির বিকালে নির্বাচন কমিশনের আইন শাখা জানিয়েছে, কাদের সিদ্দিকী ও নাসরিন সিদ্দিকীর প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার আপিল আবেদন খারিজ হয়েছে। সে ক্ষেত্রে এ দুজনের প্রার্থিতা বাতিলে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত বহাল রয়েছে।
গত মঙ্গলবার কালিহাতী আসনের উপনির্বাচনে প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ে ঋণখেলাপি হওয়ায় কাদের সিদ্দিকী, নাসরিন সিদ্দিকীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা আলীমুজ্জামান। গত শুক্রবার মনোনয়নপত্র বাতিলে রিটার্নিং কর্মকর্তার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে তার স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকীর পক্ষে আপিল করেন আইনজীবী রফিকুল ইসলাম।
সকালে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ ও চার নির্বাচন কমিশনারের উপস্থিতিতে শুনানি চলে। এ সময় কাদের সিদ্দিকীর সঙ্গে তার স্ত্রী নাসরিন সিদ্দিকীও উপস্থিত ছিলেন।
শুনানি শেষে কাদের সিদ্দিকী সাংবাদিকদের বলেন—ইসি যে স্বাধীন, আজকের রায়ের মাধ্যমে তা প্রমাণের সুযোগ রয়েছে। ইসির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে, এ সুযোগে ইমেজ পুনরুদ্ধার করতে পারবে। নির্বাচন কমিশনের প্রতি আমাদের আস্থা আছে। তিনি দাবি করে বলেন, তাদের বিরুদ্ধে ঋণখেলাপির অভিযোগ কখনোই ছিল না, সেটা কাগজ দিয়ে প্রমাণ করা হয়েছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার দক্ষতার অভাবে মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। আশা করি নির্বাচন কমিশনের কাছে আমরা সুবিচার পাব। ইসির রায় দেখে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।
এ বিষয়ে উপনির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান জানান—বাংলাদেশ ব্যাংকের ক্রেডিট ইনফরমেশন ব্যুরো (সিআইবি) নির্বাচন কমিশনকে জানিয়েছে—কাদের সিদ্দিকীর প্রতিষ্ঠান সোনার বাংলা প্রকৌশলী সংস্থার নামে অগ্রণী ব্যাংকের ১০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। কাদের সিদ্দিকী এই প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এবং নাসরিন কাদের সিদ্দিকী পরিচালক। ওই ঋণখেলাপি হওয়ায় তাদের দুজনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল-৪ আসনের সাবেক এমপি লতিফ সিদ্দিকী পদত্যাগ করায় গত ১ সেপ্টেম্বর আসনটি শূন্য ঘোষণা করে সংসদ সচিবালয়।
