রাসেলের ভাগ্য যেন আর কারো বরণ করতে না হয় : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০১৫, ২৩:৩৫

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর ছোট ছেলে শিশু শেখ রাসেলের ভাগ্য যেন আর কারো বরণ করতে না হয় এবং এমন নিষ্ঠুরতার মুখোমুখি হতে না হয়। তিনি বলেছেন, ‘আমি আমার ছোট ভাই রাসেলকে শিশু বয়সে হারিয়েছি। এজন্য আমি সকল শিশুর নিরাপদ জীবন কামনা করি। আমি চাই তারা যথাযথভাবে বেড়ে উঠুক।’

 
গতকাল রবিবার জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শেখ রাসেলের জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন। রাসেলের বড় বোন শেখ হাসিনা বলেন,  শিশু রাসেলের দেহ বুলেটে ঝাঁঝরা করে দেয়ার মাধ্যমে খুনিরা তাদের নিষ্ঠুরতা প্রকাশ ধরেছে। এখন আমি শিশুদের মুখে রাসেলকে খুঁজে ফিরছি এবং ভাবছি বেঁচে থাকলে রাসেল এখন দেখতে কেমন হতো।’
 
শেখ রাসেলের ৫১তম জন্মদিন উপযাপন উপলক্ষে শেখ রাসেল জাতীয় শিশু-কিশোর পরিষদ বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল রবিবার এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রকিবুর রহমান এতে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন এবং পরে পরিষদের সদস্যদের পরিবেশিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন।
 
শিশুদেরকে পড়াশোনায় মনোনিবেশের আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পড়াশোনায় মনোযোগের পাশাপাশি তোমাদের পাঠ্যক্রম বহিঃর্ভুত কার্যক্রমে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে হবে। কারণ খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম সুস্থ্য ও সুযোগ্য নাগরিক গড়ে তোলে। তিনি বলেন, আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে দেশ পরিচালনা করবে। দেশের মর্যাদা সমুন্নত রাখতে শিশুদের অবশ্যই সুযোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। রাসেলের সঙ্গে তাঁর স্মৃতি স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাদের পরিবার এবং দেশ যখন অস্থির সময় পার করছিল, তখন রাসেলের জন্ম হয়। ছোট ভাইকে নিয়ে তারা অত্যন্ত আনন্দিত ছিলেন।
 

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাবার সঙ্গে দেখা করতে জেলখানায় যাওয়ার সময় আমরা রাসেলকে সঙ্গে নিয়ে যেতাম। শিশু রাসেল এ পরিস্থিতি বুঝতে পারতো। কিন্তু সে কিছুই বলতো না। রাসেল বুঝতো জেলখানা হচ্ছে আমার বাবার বাড়ি। স্বাধীনতার পর রাসেল বঙ্গবন্ধুর কাছাকাছি থাকতো। বাবাকে সে বেশি বেশি কাছে পেতে চাইতো। শেষে সে আমার বাবার সঙ্গেই চির বিদায় নিল।’ ভবিষ্যতে এ ধরনের নিষ্ঠুরতা বন্ধে তার সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, শিশুদের অধিকার রক্ষায় এবং তাদের ওপর নির্যাতন বন্ধে তার সরকার আইন প্রণয়ন করেছে।