নারাজি খারিজের রিভিউ শুনানি শেষ, আদেশ ৯ নভেম্বর

আপডেট : ২০ অক্টোবর ২০১৫, ২১:১৭
 
নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার নারাজি খারিজের রিভিশন শুনানি শেষ হয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর এ মামলার আদেশের দিন ধার্য করেছেন আদালত।
 
মঙ্গলবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক সৈয়দ এনায়েত হোসেন শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। এজাহারভুক্ত ৫ আসামিকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেয়ায় নারাজী দিয়েছিলেন মামলার বাদী ও নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি। আদালত এ আবেদন না মঞ্জুর করে তা খারিজ করে দেন।
 
মামলার বাদী আদালতের নারাজি খারিজ আদেশের বিরুদ্ধে জেলা ও দায়রা জজ আদালতে রিভিশন মামলা দায়ের করেন।
 
বাদী পক্ষের আইনজীবী এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ৭ খুন মামলার প্রধান আসামী নুর হোসেনকে ভারতের একটি আদালত ফেরত দেয়ার আদেশ দিয়েছে, তাই তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকান্ডের রহস্য বের করে চার্জশীট প্রদানের জন্য আবেদন করা হয়েছে।
 
এদিকে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর ফজলুর রহমান জানান, ২২ জনের জবানবন্দি ও ১৯ জনের সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে তদন্ত সংস’া ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে নির্ভূল অভিযোগপত্র দাখিল করেছে। মামলাটি দ্রুত বিচারের জন্য জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালত বাদীর নারাজী আবেদন না-মঞ্জুর করেছেন। তিনি অভিযোগ করে বলেন, বাদী পক্ষ বিচার কর্যক্রম বিলম্বিত করতে একটার পর একটা আবেদন করে যা”েছ।
 
মামলার বাদী ও নিহত প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটির অভিযোগ, তাদের নিরাপত্তার জন্য দেয়া পুলিশ প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তরা তাদের নানাভাবে হুমকি ধামকি দি”েছ। তাদের বিরুদ্ধে উল্টো মামলাও করেছে। তিনি বলেন, হত্যাকান্ডের নির্দেশদাতা ও অর্থের উত্স বের করতে নুর হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।
 
গত ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোডের ফতুল্লা স্টেডিয়াম এর সামনে থেকে নারয়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন এর কাউন্সিলর নজরুল ইসলাসহ ৭ জনকে অপহরণ করা হয়। তিনদিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বিউটি বাদী হয়ে একটি ও আইনজীবী চন্দন সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল বাদী হয়ে ফতুল্লা মডেল থানায় অপর মামলাটি দায়ের করেন।
 
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা গত ৯ এপ্রিল নূর হোসেন ও র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ৩৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এ মামলায় বর্তমানে র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২২ জন কারাগারে আটক রয়েছে। বাকি ১৩ জন পলাতক রয়েছে।
 

অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি প্রাপ্তরা হলেন, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মিয়া, সড়ক ও জনপথের ঠিকাদার হাসমত আলী হাসু, সিদ্ধিরগঞ্জ থানা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম রাজু, ইকবাল হোসেন ও শ্রমিকদল নেতা আনোয়ার।