পুলিশের নিষ্ক্রিয়তা কেন বে-আইনি নয় :হাইকোর্ট

আপডেট : ২১ অক্টোবর ২০১৫, ০০:৩৯

রাজধানীর গুলশানে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্য ডা. এইচবিএম ইকবালের ভাতিজা ফারিজ রহমানের (১৬) গাড়ির ধাক্কায় রিকশাচালকসহ কয়েকজন গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না এবং যথাসময়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে পুলিশের নিষ্ক্রিয়তাকে কেন বেআইনি ঘোষণা করা হবে না-তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছে হাইকোর্ট। আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে স্বরাষ্ট্র সচিব, পুলিশের আইজি, ডিএমপি কমিশনার, গুলশান থানার ওসিসহ ছয়জনকে এই রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। ছয়জন আইনজীবীর করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি মো. ইকবাল কবিরের অবকাশকালীন ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল মঙ্গলবার এই আদেশ দেন। এছাড়া ওই ঘটনায় যথাযথভাবে দায়িত্ব পালন না করায় গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) বিরুদ্ধে কেন বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা-ও জানতে চেয়েছে আদালত। ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

 
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত ১২ অক্টোবর বিকাল পৌনে চারটার দিকে গুলশানের ৭৪ নম্বর সড়কে ফারিজ তার বাবা এইচবিএম জাহিদুর রহমানের কেনা বিএমডব্লিউ কার চালাচ্ছিলেন। সেসময় তিনি মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। যার ফলে গাড়িটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুইটি রিকশাকে পিছন থেকে ধাক্কা দেয়। এসময় দুইজন রিকশাচালক ও এক যাত্রী গুরুতর আহত হন। পরে এ নিয়ে দৈনিক ইত্তেফাকসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এসব প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আইনজীবী ব্যারিস্টার ওমর ফারুক, আইনজীবী কে এইচ বাহার রুমী, মাহফুজ-বিন ইউসুফ, শামীম আরা সুমি, খন্দকার নাজমুল আহসান ও এসএম আসলাম গতকাল হাইকোর্টে রিট আবেদন দায়ের করেন।
 
আবেদনে বলা হয়, মোটরযান আইন অনুযায়ী কোনো দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ার ২১ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা দায়ের করতে হয়। কিন্তু গুলশানের সড়ক দুর্ঘটনার পর ৮ দিন পেরিয়ে গেলেও পুলিশ এ ব্যাপারে গাড়ির চালক ও মালিকের বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেয়নি। যেহেতু এখনো প্রায় দুই সপ্তাহ সময় রয়েছে সেহেতু এ ব্যাপারে হাইকোর্টের নির্দেশনা দরকার। আবেদনের পক্ষে ব্যারিস্টার অনীক আর হক ও ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আমাতুল করীম ও সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল টাইতাস হিল্লোল রেমা।
 

পুলিশের পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপ-কমিশনার মোস্তাক হোসেন খান ইত্তেফাককে বলেন, ‘এখনও আমরা আদালতের নির্দেশনা হাতে পাইনি। আদালত যা বলবে আমরা সে নির্দেশনা অনুসরণ করব।’ পুলিশ ছেড়ে দেয়ার পর ওই কিশোরকে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’