জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় আরো চারজন সাক্ষ্য দিয়েছেন। এ নিয়ে মামলায় ১৭ জনের সাক্ষ্য নেয়া শেষ হলো। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ আগামী ২৯ অক্টোবর ধার্য করেছেন আদালত।
বুধবার ঢাকার বিশেষ জজ-৩ এর বিচারক আবু আহমেদ জমাদার সাক্ষীদের জবানবন্দি নিয়ে পরবর্তী শুনানির তারিখ ধার্য করেন। ওই চারজন সাক্ষী হলেন- দুদকের উপপরিচালক চৌধুরী এমএন আলম, সোনালী ব্যাংক ক্যান্টনমেন্ট শাখার ক্যাশিয়ার ওয়ালিদ আহমেদ, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংক কুষ্টিয়া শাখার জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মামুনুজ্জামান, মেট্রো মেকার্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম। এ নিয়ে এ মামলায় মোট ১৭ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হল।
খালেদা জিয়ার আইনজীবী সানাউল্লাহ মিয়া বলেন, এ মামলায় খালেদা জিয়ার অনুপস্থিতিতে আজও চারজনের সাক্ষ্য নেয়া হয়েছে। তিনি অসুস্থ থাকায় লন্ডনে অবস্থান করছেন। তাঁর পক্ষে আমি হাজিরা দিয়েছি।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতির দুই মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াসহ নয় জনের বিরুদ্ধে ২৯ অক্টোবর পরবর্তী সাক্ষ্যগ্রহণ করা হবে। এর আগে ১৫ অক্টোবর আদালতে সাক্ষ্য দেন স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক মতিঝিল শাখার তত্কালীন শাখা ম্যানেজার নওশাদ মাহমুদ, রিলেশনশিপ ম্যানেজার আমিনুল ইসলাম ও কাস্টমার সার্ভিস ম্যানেজার অলোক কান্তি। এ দিন জিয়া চ্যারিটেবল দুর্নীতি মামলায় সোনালী ব্যাংকের ডিজিএম ড. মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান, এসিস্ট্যান্ট জেনারেল ম্যানেজার আমির উদ্দিন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ম্যানেজার পরিতোষ চন্দ্রকে জেরা করেন খালেদা জিয়ার আইনজীবীসহ অন্যান্য আইনজীবীরা।
দুদকের পক্ষে আইনজীবী মোশররফ হোসেন কাজল বলেন, প্রধানমন্ত্রী থাকাকলীন খালেদা জিয়া এ ট্রাস্ট করেছেন। যা আইনত করা য়ায় না। ট্রাস্টের অর্থ নিজেরা লাভবান হতে ব্যয় ও আত্মসাত্ করেছেন বলে তিনি দাবি করেন।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টের নামে দুর্নীতির অভিযোগে ২০০৮ সালের ৩ জুলাই রমনা থানায় দুদক মামলা দায়ের করে। এ মামলায় ২০০৯ সালের ৫ আগস্ট দুদক অভিযোগপত্র দাখিল করে। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে অবৈধভাবে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ এনে খালেদা জিয়াসহ চারজনের নামে ২০১১ সালের ৮ আগস্ট তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করেন দুদকের সহকারী পরিচালক হারুনুর রশিদ। ২০১২ সালের ১৬ জানুয়ারি এ মামলায় আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। গত ১৯ মার্চ দুই মামলায় খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে বিএনপি’র সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন করে ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৩।
গত বছরের ১৯ মার্চ দুই দুর্নীতি মামলায় খালেদা জিয়ার উপস্থিতিতে তার বড় ছেলে তারেক রহমানসহ অন্য আট আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
খবর ফোকাস বাংলার।
