ইছামতিতে এবারও হল না দুই বাংলার মিলনমেলা

আপডেট : ২৩ অক্টোবর ২০১৫, ২১:০১
 
বাঙালি হিন্দুদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গা পূজার শুক্রবার ছিল শেষ দিন বিজয়া দশমী। সাতক্ষীরার দেবহাটা উপজেলার সীমান্তে ইছামতি নদীতে প্রতিমা বিসর্জন উপলক্ষে এদিন দুই বাংলার মিলনমালা বসার ঐতিহ্য থাকলেও গত দুবছরের মতো এবারও নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে হতে দেয়া হয়নি যৌথ প্রতিমা বিসর্জন।
 
সকাল থেকে নদীর এ পারে হাজার হাজার মানুষ উপস্থিত হলেও নদীতে নৌকা ভাসাতে পারেননি কেউই। ফলে বাংলাদেশ পারে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে সন্ধ্যার পরে হতাশা নিয়ে ফিরে গেছেন হাজারো মানুষ।
 
ইছামতির পাড়ে মিলন মেলায় অংশ নেয়া কয়েক জনের সাথে কথা বলে জানা যায়, বিজয়া দশমীতে দুই বাংলার মানুষ কিছুটা সময়ের জন্য একাকার হয়ে যেতেন। কিন্তু তিন বছর ধরে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আনন্দ উৎসব থেকে আমাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে।
 
গত বছর যার যার সীমানায় বিজয়া দশমীর উৎসব করতে দেয়া হলেও এবার বাংলাদেশের কোন মানুষকেই নদীতে নামতে দেয়া হয়নি। ফলে নদীর তীরে দাড়িয়ে প্রতিমা বিসর্জন দিয়ে যে যার ঘরে ফিরে যান তারা।
 
স্থানীয়রা জানান, দেবহাটা সীমান্তের ওপারে ভারতের টাকি বিএসএফ ক্যাম্প ও এপারের বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা সীমান্তে কড়া নজরদারি চালায় শুক্রবার। তার পরও বাংলাদেশ সীমান্তে হাজার হাজার  মানুষ উপস্থিত হয়েছিলেন।
 
অন্যান্য বার দু’দেশের পক্ষ থেকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ এবং প্রশাসনের পদস্থ কর্মকর্তারা এ মিলন মেলায় অংশ নিলেও দুবছর ধরে কেউ আর আসছেন না।
 
এ ব্যাপারে দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাহমিনা খাতুন জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে বিজয়া দশমীর আনন্দ উত্সব করতে দেয়া যাচ্ছে না। তাছাড়া ভারতের পক্ষ থেকে কোন ইতিবাচক সাড়া না পাওয়ায় সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি রয়েছে।
 
বিজয়া দশমী উপলক্ষে সাতক্ষীরা সীমান্তের ইছামতি নদীতে আন্তর্জাতিক সীমানা মুছে দু’বাংলার মানুষ কিছুক্ষণের জন্য একাকার হয়ে যেতেন। মানুষের আবেগ আর উচ্ছ্বাসের কাছে হার মানত সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া। এমনকি কলকাতা থেকেও নৌযান ভাড়া করে মানুষ আসত এই মিলনমেলায়।