'ছিটমহল বাসিন্দাদের অর্থনীতির মূলধারায় সংযুক্ত করা হবে'

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৫, ১৮:৩৮


বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আতিউর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের মানচিত্রে সদ্য অন্তর্ভুক্ত হওয়া ছিটমহল বাসিন্দাদের জাতীয় অর্থনীতির মূলধারায় সংযুক্ত করা এবং তাদের সম্ভাবনাময় উদ্যোগসমূহ বিকশিত করার লক্ষ্যে নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

রবিবার সকালে গভর্নর দহলা খাগড়াবাড়ীতে এন,বি,এল হাজী লূৎফর রহমান উচ্চ বিদ্যালয়ের একাডেমিক ভবনের উদ্ধোধন এবং দোহলাখাগড়াবাড়ী পৌঁছানোর পর স্থানীয় লোকদের ব্যাংকিং সেবা প্রদানে সরকারি ও বে-সরকারি খাতের ব্যাংকের স্থাপিত ৪০টি স্টল উদ্ধোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এ কথা বলেন।

বাংলাদেশ ব্যাংক রংপুর শাখার জেনারেল ম্যানেজার খুরশিদ আলমের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রখেন দেবীগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হাসনাৎ জামান চৌধূরী জর্জ। অন্যদের মধ্যে দেবীগঞ্জের ইউএনও মোঃ শফিকুল ইসলাম ,উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আ.স.ম. নুরজ্জামান,এবং বিভিন্ন ব্যাংকের ব্যাস্থাপনা পরিচালকবৃন্দ, জেনারেল ম্যানেজারগণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন।

প্রধানমন্ত্রীর ছিটমহল নিয়ে পরিকল্পনা প্রসঙ্গে গভর্নর বলেন, 'সুখে-দুঃখে আপনাদের পাশে থাকার প্রত্যয় নিয়ে বিলুপ্ত ছিটমহলবাসীর অবস্থা দেখার জন্য প্রধানমন্ত্রী কুড়িগ্রাম এসেছিলেন। তিনি বাংলাদেশের এই নতুন নাগরিকদের জীবনমান উন্নয়নে সম্ভাব্য সবকিছু করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উন্নয়নমূলক বেশ কিছু প্রকল্পের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেছেন। ‘আমিও আপনাদের কথা দিচ্ছি সমগ্র ব্যাংকিং পরিবার আপনাদের পাশে থাকবে।'

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ টেকসই প্রবৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের আদর্শ হিসেবে বিশ্বব্যাপী পরিচিত হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যেই বাংলাদেশ নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হয়েছে। এখন আমরা দ্রুত এগুচ্ছি উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হবার পথে। সম্ভাব্য এ অর্জনের শক্ত পাটাতন তিনি এরই মধ্যে সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বিশেষ করে সর্বশেষ সপ্তম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা দলিল অনুমোদনের মাধ্যমে স্হাপন করেছেন।

বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা গড়ার অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়নে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং বাংলাদেশ এখন নিম্ন আয়ের দেশ অতিক্রম করে মধ্যম আয়ের দেশের দিকে অগ্রসর হচ্ছে উল্লেখ করে গর্ভনর ড. আতিউর রহমান বলেন, আর্ত-সামাজিক অবস্থা এবং স্থানীয় লোকদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্ধুদ্ধ হয়ে গোটা জাতি একযোগে কাজ করতে পারলে অচিরেই দারিদ্রের ভয়কে জয় করার মাধ্যমে কাঙ্খিত সাফল্য অর্জন সম্ভব।

বর্তমান সরকার রূপকল্প ২০২১'র আলোকে জাতির সামনে অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের যে অভুতপূর্ব স্বপ্নের অবতারণা করেছে তা বাস্তবায়নে ব্যাংকিং খাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রবদ্ধি যেন দরিদ্র-বান্ধব ও টেকসই হয় এবংএর সুফল সমাজের বৃহত্তর জনগোষ্ঠির কাছে পৌছে দিতে পারে সে লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক তার বিধিবদ্ধ দায়িত্ব ও দারিদ্র নিরসনে ব্যাংকিং সুবিধার বাইরে থাকা দেশের বিশাল জনগোষ্ঠিকে আর্থিক সেবার আওতায় আনার কৌশল ফাইন্যান্সিয়াল ইনক্লুশন কার্যক্রমকে বেগবান করার উদ্যোগ গ্রহন করা হয়েছে।

গর্ভনর বলেন, 'আমি এবং সহযোগি ব্যাংকগুলো আপনাদেরকে ভরসা দেয়ার জন্য এখানে এসেছি এবং ব্যাংকগুলো যৌথভাবে সামাজিক দায়বদ্ধতা (সিএসআর)কর্মসূচীর আওতায় দহলা খাগড়াবাড়ী এলাকার জনগনের স্বাস্থ্য সমস্যা দুর করার জন্যে ৩৩৪ টি নলকুপ, ১৯২টি স্যানিট্রারী ল্যাট্রিন, ১০টি স্প্রে মেশিন,বিপুল পরিমান ওষুধ এবং শিক্ষা কার্যক্রমের আধুনিকায়নে ১৯টি কম্পিউটার, ১৩০০টি স্কুল ব্যাগ, ৪২ লাখ টাকা খরচে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় নির্মাণ, ১৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা শিক্ষা বৃত্তি প্রদান, ১০০টি স্কুল বেঞ্চ, স্ব-কর্মসংস্থানের জন্য ৯০টি সেলাই মেশিন, ১৮৩টি বাই-সাইকেল, ১১০টি ভ্যান গাড়ি, ১৪৬ বান্ডিল ঢেউটিন, ৩০টি গরু, দরিদ্র মানুষের শীত নিবারণের জন্য ৫১০০টি কম্বল বিতরণ, সৌর বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থাকরন, যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে কালভার্ট নির্মাণ এসব বহুমূখী পদক্ষেপ গ্রহন ও বিতরণে ব্যাংকগুলো আপনাদের কাছে এগিয়ে এসেছে এবং এ খাতগুলোতে ব্যয়িত অর্থের পরিমান ২ কোটি ৫০ লাক্ষ টাকা।