‘৫ বছরের মধ্যে রাজকোষহীন হয়ে পড়তে পারে সৌদি আরব’

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৫, ২১:৫৮
 
মধ্যপ্রাচ্যের বৃহৎ অর্থনীতির দেশ সৌদি আরব আগামী ৫ বছরের মধ্যে গুরুতর আর্থিক সংকটে পড়তে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)।
 
বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ার পাশাপাশি ইয়েমেনে ব্যয়বহুল যুদ্ধ শুরু করার কারণে গুরুতর অর্থনৈতিক সংকটের মুখে পড়তে যাচ্ছে দেশটি। সংস্থাটির ‘মিডলইস্ট ইকোনমিক আউটলুক’-এর বরাত দিয়ে ডেইলি পাকিস্তানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়—চলতি বছর সৌদি আরবের বাজেট ঘাটতি ২১ দশমিক ৬ শতাংশে দাঁড়াতে পারে। আর আগামী বছর এর পরিমাণ হতে পারে ১৯ দশমিক ৪ শতাংশ।
 
এতে ব্যয়ের সংস্থান করার জন্য আরো বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে সৌদি আরবের। অথচ বিশ্ব বাজারে তেলের দাম কমার ফলে দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমতে শুরু করেছে। তেলের দাম কমতে শুরু করার পর থেকে (জানুয়ারি থেকে আগস্ট) সৌদি আরবের রিজার্ভের পরিমাণ কমেছে ৮২ বিলিয়ন ডলার।
 
আইএমএফের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক পরিচালক মাসুদ আহমেদ সাংবাদিকদের বলেছেন, তেলের দাম কমায় এ অঞ্চলের রফতানিকারক দেশগুলো বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে। এ বছরই তাদের রাজস্ব ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৬০ বিলিয়ন ডলার।
 
 
এ দিকে, সৌদি আরবের আয়ের ৮০ শতাংশই আসে তেল রপ্তানি থেকে। ফলে তেলের দাম কমায় দেশটির আয় ব্যাপকভাবে কমে যাচ্ছে। এতে দেশটির আর্থিক পরিস্থিতি সংহত রাখা কঠিন হয়ে পড়তে পারে। পাশাপাশি ২০২০ সালের মধ্যে অন্তত এক কোটি লোক কাজের সন্ধানে নামবে। তাই তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করাও সরকারের জন্য কঠিন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে।
 
তেলের দাম কমায় কুয়েত, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আয় কমলেও দেশগুলোর রিজার্ভের অবস্থা সৌদি আরবের মতো খারাপ পরিস্থিতিতে এখনো পৌঁছায়নি।
 
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সৌদি আরবের সামরিক ব্যয় দিন দিন বাড়ছে। অন্য দিকে, আয়ের মূল উৎস তেলের দাম কমতে থাকায় ২০০৯ সালের পর এই প্রথমবারের মতো বড় ধরনের বাজেট ঘাটতিতে পড়তে যাচ্ছে দেশটি। পরিস্থিতি সামাল দিতে এরই মধ্যে ব্যয় সংকোচন করা হয়েছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি অবলম্বন করছে। তবে অল্প কিছু ব্যয় সামাল দিলেই অবস্থার তীব্রতা কমবে না। বরং বড় আকারের ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বড় অনেক প্রকল্প স্থগিত করতে হবে।
 
কেবল সৌদি আরব নয়, প্রতিবেশী তেলসমৃদ্ধ অন্য দেশগুলোকেও পরিস্থিতি সামাল দিতে বড় ধরনের ব্যয় সংকোচনের পথে হাঁটতে হবে।
 
এ দিকে, টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে—অর্থনৈতিক খারাপ পরিস্থিতির ফলে সৌদি আরবের বর্তমান বাদশার ক্ষমতাই হুমকির মুখে পড়েছে। সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশার জীবিত সন্তানদের ১২ জনের মধ্যে আটজনই বর্তমান বাদশার পরিবর্তে আহমেদ বিন আব্দুল আজিজকে ক্ষমতায় দেখতে চান।
 
সাম্প্রতিক সময়ের অর্থনৈতিক দুশ্চিন্তার মধ্যেও ইয়েমেনে ব্যয়বহুল যুদ্ধ শুরু করা এবং হাজিদের নিরাপত্তা দিতে না পারার কারণে বর্তমান সৌদি বাদশার বিরুদ্ধে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই আইএমএফ সৌদি আরব আগামী ৫ বছরের মধ্যে সম্পদহীন হয়ে যেতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে। এছাড়া, বর্তমান বাদশা আলঝেইমার রোগে ভুগছেন বলেও খবর বেরিয়েছে। এ সব কারণেই তার পরিবর্তন চান তারা।