শিশু রাজন হত্যা : ১১ আসামির ৬ জন নির্দোষ দাবি

আপডেট : ২৫ অক্টোবর ২০১৫, ২০:৫৭


সিলেটে তের বছরের শিশু সামিউল আলম রাজন হত্যা মামলায় আসামিদের যাচাইবাছাই ও রাষ্ট্রপক্ষে প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়েছে। আদালত সোমবার ফের রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন গ্রহণ করবেন। রাষ্ট্রপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আসামি পক্ষের আইনজীবীরা আদালতে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করবেন।

রবিবার দুপুর থেকে বিকাল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত সিলেট মহানগর দায়রা জজ আকবর হোসেন মৃধার আদালতে আসামিদের যাচাইবাছাই ও রাষ্ট্রপক্ষে প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ ১১ আসামির মধ্যে ৬ জন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি অ্যাডভোকেট মফুর আলী জানান, আদালতে রবিবার প্রথম দিনের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হয়। তবে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ না হওয়ায় সোমবার আবারো রাষ্ট্রপক্ষে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করা হবে। তিনি আরো জানান, ৩৪২ ধারায় আসামিদের যাচাইবাছাইকালে রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি কামরুল ইসলামসহ ১১ আসামির মধ্যে ৬ জন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। তারা হলেন প্রধান আসামি কামরুলের ভাই মুহিত আলম, অপর ভাই আলী হায়দার, ভিডিওচিত্র ধারণকারী নূর আহমদ, আয়াজ আলী, আজমত উল্লাহ, ফিরোজ আলী।

রবিবার আদালতে রাজন হত্যা মামলায় গ্রেফতারকৃত ১১ আসামিকেও হাজির করা হয়। আসামি নূর মিয়া ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রত্যাখ্যান করে আবেদন করেছেন। যদিও তা প্রত্যাখ্যানের বিধান নেই বলে জানান তিনি।

এর আগে গত ১৫ অক্টোবর রাজন হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কাজ শেষ হয়। ওইদিন বিকেলে সৌদি থেকে প্রধান আসামি কামরুল ইসলামকে দেশে ফেরানোর পর গত ১৮ অক্টোবর তাকে প্রথমবারের মতো আদালতে হাজির করা হয়। আদালতে কামরুল সাক্ষীদের পুনঃসাক্ষ্যগ্রহণের আবেদন জানায়।

তবে আদালতের বিচারক আকবর হোসেন মৃধা ওইদিন তার আবেদন নামঞ্জুর করেন। পরে গত ২০ অক্টোবর ফের কামরুলের আইনজীবী আদালতে ১৫ সাক্ষীর পুনঃসাক্ষ্যগ্রহণের আবেদন জানান। বিচারক ১১ সাক্ষীর পুনঃসাক্ষ্যগ্রহণের নির্দেশ দেন। ২১ অক্টোবর আদালত ১১ সাক্ষীর পুনঃসাক্ষ্যগ্রহণ করেন।

গত ১ অক্টোবর থেকে শুরু হয় রাজন হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণের কাজ। এরপর ৪, ৭, ৮, ১১, ১২, ১৩, ১৪, ১৫ ও ১৮ অক্টোবর মোট ৩৫ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়। গত ২২ সেপ্টেম্বর ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে রাজন হত্যা মামলায় অভিযোগ গঠন করেন আদালত।

উল্লেখ্য, গত ১৬ আগস্ট রাজন হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক সুরঞ্জিত তালুকদার ১৩ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। আদালত ২৪ আগস্ট চার্জশিট আমলে নেন। পরদিন ২৫ আগস্ট পলাতক কামরুল ও শামীমের মালামাল ক্রোক করে নগরীর জালালাবাদ থানা পুলিশ। গত ৩১ আগস্ট রাজন হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি পলাতক কামরুল ইসলাম, তার ভাই শামীম আহমদ ও আরেক হোতা পাভেলকে পলাতক দেখিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

গত ৭ সেপ্টেম্বর রাজন হত্যা মামলা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে হস্তান্তর করা হয়। গত ১৫ অক্টোবর রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি সৌদিতে পলাতক কামরুল ইসলামকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।
গত ৮ জুলাই সিলেটের কুমারগাঁওয়ে সামিউল আলম রাজনকে ভ্যান গাড়ি চুরির অপবাদ দিয়ে নির্মম নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করা হয়। এতে দেশে বিদেশে প্রবিাদের ঝড় ওঠে।