সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কথিত ‘নাস্তিক’ ব্লগারদের তালিকা প্রকাশ করে নৃশংস কায়দায় হত্যা, বিদেশি খুন এবং জঙ্গিদের শক্তিমত্তা প্রদর্শনের তত্পরতায় আতঙ্কে সময় পার করছে বাংলাদেশের ধর্মনিরপেক্ষ, বিজ্ঞানমনস্ক, প্রগতিশীল ধারার মানুষরা। তবে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে চলেছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, এই পরিস্থিতিতে সরকার হাত-পা গুটিয়ে বসে নেই।
বিশ্বখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনের সর্বশেষ প্রিন্ট সংস্করণের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
নিখিল কুমার এবং ফরিদ হোসেনের লেখা ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৪৭ সালে ধর্মের ভিত্তিতে বিভক্ত হয় ভারত ও পাকিস্তান, আর পাকিস্তান থেকে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন ভূখণ্ড পাওয়া মুসলিমান সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশটিতে বাংলা ভাষা ও চিরাচরিত সংস্কৃতির ভিত্তিতে ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের আশায় যুদ্ধ করছে মুক্তমনারা। অথচ চলতি বছরেই চারজন ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগার ও লেখক নিহত হয়েছেন। যার সর্বশেষ শিকার নিলাদ্রী চট্টোপধ্যায়।
২০১৩ সালে রাজীব হায়দারকে নৃশংসভাবে হত্যার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই নাশকতার শিকার সবাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে গড়ে উঠা শাহবাগ আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। গণজাগরণ মঞ্চের সাথে জড়িত সবাই নাস্তিক এমন প্রচারণা চালিয়েছে জঙ্গি দলগুলো।
ভবিষ্যতের ভয়াবহতার ইঙ্গিত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির রাজনীতি ও সরকার বিভাগের অধ্যাপক আলী রীয়াজ টাইমকে বলেছেন, ধারাবাহিকভাবে ব্লগার খুনের পর বিদেশিদের গুলি করে হত্যার ঘটনা অশুভ ইঙ্গিত। আন্তর্জাতিক গোষ্ঠিগুলোর সাথে যোগাযোগ না থাকলেও স্থানীয় জঙ্গিরা প্রভাব বিস্তারের সুযোগ ছাড়বে না বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন আলী রীয়াজ।
উগ্রপন্থি ইসলামি গোষ্ঠির হত্যার তালিকায় থাকা ব্লগার আরিফ জেবতিক বর্তমান সময়ে তার আতঙ্কের মধ্যে দিনাতিপাতের কথা বলতে গিয়ে ভয়াল এক অভিজ্ঞতার কথা জানান টাইমকে। অর্থ সংগ্রহের আশায় তিনজন মাদ্রাসা ছাত্র আরিফের বাসার নিচে আসে। তাদের চলে যেতে বললেও তারা যায় না। যা বাড়ির দারোয়ান ফোনে জানালে বাসায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। জেবতিকের মা দরজা বন্ধ করে দিয়ে তাকে বাথরুমে লুকিয়ে থাকতে বলে। অথচ পরে দেখা যায়, তারা বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতেই সেখানে অবস্থান করছিলো। আরিফ জেবতিকের এই বর্ণনা মুক্তমনা লেখকদের চরম নিরাপত্তাহীনতাকেই তুলে ধরে।
টাইমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান সরকার একটি ধর্ম নিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়তে অঙ্গীকারাবদ্ধ। যেখানে সকল মতের লোকের মতপ্রকাশের সুযোগ থাকবে। ব্লগারদের খুনের ঘটনায় যথাযথ বিচারের আশ্বাস দিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ব্যক্তিগতভাবে আমি এটা সমর্থন করি না। যদি কেউ মনে করে তার কোনো ধর্ম নেই তাতে কোনো সমস্যাও নেই। এটা তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তবে কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে তাদের কথা বলা বা লেখারও কোনো অধিকার নেই। ব্লগারদের অন্য কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা উচিত নয়। যখন কেউ একটি সমাজে বসবাস করে তখন সেই সামাজিক মূল্যবোধগুলোকে, অন্যের অনুভূতিকে অবশ্যই সম্মান দেখানো উচিত।
