‘পাকিস্তান জঙ্গিদের সমর্থন ও প্রশিক্ষণ দিয়েছে’

আপডেট : ২৮ অক্টোবর ২০১৫, ১৫:৪২
পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রপতি পারভেজ মোশাররফ স্বীকার করেছেন তার দেশ ধর্মভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনগুলোকে ১৯৯০ সালের দিকে জঙ্গি তৎপরতা চালাতে সমর্থন ও প্রশিক্ষণ দিয়েছিল। সাবেক সেনাপ্রধান এটাও জানিয়েছেন বিভিন্ন জঙ্গি সংগঠনের শীর্ষ নেতারা সেই সময় পাকিস্তানে রীতিমতো জাতীয় বীরের মর্যাদা পেতেন।  
 
 
পাকিস্তানের নিউজ চ্যানেল দুনিয়া নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পারভেজ মোশাররফ বলেন, ১৯৯০-এর দশকে কাশ্মীরে স্বাধীনতা আন্দোলন শুরু হয়। ওই সময় লস্কর-ই তাইয়েবার মতো ১১ থেকে ১২টি সংগঠন সৃষ্টি হয়। আমরা তাদের সমর্থন করেছি এবং প্রশিক্ষণ দিয়েছি, কেননা তারা জীবন বাজি রেখে কাশ্মীরে যুদ্ধ করেছে। ২০০৮ সালে ভারতের মুম্বাইয়ে সন্ত্রাসী হামলার মূল হোতা হাফিজ সাইদ ও লাকভির বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে পারভেজ মোশাররফ এসব কথা বলেন। ভারতের মোস্ট ওয়ানটেড সন্ত্রাসীর তালিকায় হাফিজ সাইদের নাম রয়েছে। কিন্তু পাকিস্তানে স্বাধীনভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন তিনি। ২০০৮ সালের ২৬ নভেম্বর মুম্বাইয়ে হামলার অভিযোগে লাকভি এবং আরো ছয়জনের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ওই হামলায় ১৬৬ জন নিহত হয়।  এদিকে চলতি বছরের শুরুর দিকে পাকিস্তানের একটি আদালত লাকভিকে জামিন দেন। এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ভারত। লাকভির মতো শীর্ষ সন্ত্রাসীকে জামিন দেওয়ায় পাকিস্তানের সঙ্গে কূটনৈতিক উত্তেজনা বেড়ে যায় ভারতের।  পারভেজ মোশাররফ আরো বলেন, কাশ্মীরের স্বাধীনতা আন্দোলনে নেমে হিরো বনে যান হাফিজ ও লাকভি। কিন্তু ধর্মভিত্তিক আন্দোলন থেকে সরে তারা এখন সন্ত্রাসী গোষ্ঠীতে পরিণত হয়েছে। তারা এখন নিজেদের লোককেই মারছে। 
 
 
মোশাররফ আরো বলেন, পাকিস্তান সারা বিশ্ব থেকে আসা ধর্মভিত্তিক জঙ্গিদের সমর্থন দিয়েছিল সেই সময়ে আফগানিস্তানে দখলদার সোভিয়েত বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়তে। তিনি বলেন, আমরা তালেবানদের প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করতে পাঠিয়ে ছিলাম। তালেবান, হাক্কানি, ওসামা বিন লাদেন ও জাওয়াহিরি সেই সময় আমাদের জাতীয় বীরে পরিণত হয়েছিলেন। পরবর্তীতে তারা খলনায়কে পরিণত হন। পিটিআই।