আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রেক্ষাপটে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বিএনপি। রাজধানীতে গতকাল শনিবার প্রকাশক আরেফিন দীপন হত্যা ও লেখকদের উপর হামলার পরে দলের পক্ষে এই আহ্বান জানান বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
সন্ত্রাসীদের হাতে নিহত জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার ফয়সল আরেফিন দীপনের শোকগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের রোববার সন্ধ্যায় সান্ত্বনা জানাতে গিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের একটি পরিস্থিতিকে সরকার, বিরোধী দল নির্বিশেষে সকল রাজনৈতিক দল মিলে আমরা প্রতিরোধ করতে চাই। আমরা সবাই মিলে এই ঘটনার নিন্দা জানাতে চাই, এর প্রতিবিধান ঘটাতে চাই। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটে সরকারকে পরামর্শ দেব, তারা যেন সর্বদলীয় বৈঠক ডেকে এবং এসব ঘটনার বিচার বিভাগীয় তদন্ত করে ঘটনাকে যৌক্তিক পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। দোষীদের যেন শাস্তির বিধান করা হয়।
IMG0
সন্ধ্যায় ৬টার দিকে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হাফিজ উদ্দিন, ফয়সল আরেফিন দীপনের বাবা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আবুল কাশেম ফজলুল হকের বাসায় যান। এ সময় দলের সহ-দপ্তর সম্পাদক শামীমুর রহমানও ছিলেন। সাংবাদিকদের কাছে হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেন, বেগম খালেদা জিয়া ও বিএনপির পক্ষ থেকে শোক সন্তপ্ত পরিবারকে সান্ত্বনা জানাতে এসেছি। তাদেরকে সান্ত্বনা দেবার ভাষা আমার নেই। মৃত ব্যক্তির পিতা জনাব আবুল কাশেম দেশের একজন বরেণ্য শিক্ষাবিদ। তিনি ধীর স্থিরভাবে বিজ্ঞব্যক্তির মতো এ শোককে মোকাবেলা করছেন। আমরা দীপন হত্যাকাণ্ডসহ সকল হত্যার নিন্দা জানাই। বাংলাদেশে ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের ঘটনা না ঘটে এটাই আমরা কামনা করি।
দীপন হত্যার দায় সরকার এড়াতে পারে না মন্তব্য করে সাবেক মন্ত্রী হাফিজ বলেন, দেশে চলছে বিচারহীনতার সংস্কৃতি। সরকারের পুলিশ বাহিনী সন্ত্রাসীদের না খুঁজে গণতন্ত্রকামী লড়াকু মানুষদের খুঁজে বেড়ায় যারা জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করে। দেশে গণতন্ত্র না থাকার কারণে ‘ধর্মান্ধ’ ব্যক্তিরা নানা ঘটনা ঘটানোর সুযোগ পাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তিনি বলেন, আমরা আশা করব- এই ধরনের হত্যাকাণ্ডে সরকার প্রশ্রয় দেবেন না। দেশের পরিবেশ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের জন্য সরকারকে পরামর্শ দেব। কোনো ধরনের তদন্ত শুরু করার আগে যেন কাউকে দোষী হিসেবে ঘোষণা না করেন সরকারের কর্তাব্যক্তিরা, তাদের কাছে অনুরোধ থাকল। তারা পুলিশ বাহিনী যাতে সকল প্রভাবমুক্ত হয়ে কাজ করতে পারেন, সেই পরিবেশ যেন সৃষ্টি করেন।
গতকাল শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর শাহবাগে আজিজ সুপার মার্কেটে অভিজিতের বন্ধু ও তার বইয়ের প্রকাশক জাগৃতি প্রকাশনীর কর্ণধার ফয়সল আরেফিন দীপনকে একই কায়দায় কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এর ঘণ্টা আগে লালমাটিয়ায় ওই লেখকের বইয়ের আরেক প্রকাশক শুদ্ধ স্বরের কর্ণধার আহমেদুর রশীদ চৌধুরী টুটুলসহ তিন জনকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়।
