জনগণের রক্ষক পুলিশ যখন ভক্ষকের রূপ ধারণ করে, তখন প্রয়োজন হয় জবাবদিহিতার। কিন্তু সেই জবাবদিহিতার পথ তৈরির পদ্ধতিও যদি হয় কঠিন, তাহলে? এমনই প্রশ্ন থেকে যুক্তরাজ্যে একটি অ্যাপ তৈরি করা হয়েছে। পুলিশকে জবাবদিহিতায় বাধ্য করতে তৈরি এই অ্যাপের সাহায্যে সরাসরি ভিডিও ফুটেজ জমা হবে নির্দিষ্ট সার্ভারে। সেখান থেকে চাইলে পরে আইনি সহায়তার জন্য ব্যবহৃত হবে ভিডিও ফুটেজটি।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া সফরে সেখানকার পুলিশের বর্ণবিদ্বেষী নৃশংশতার বিরুদ্ধে প্রচারণাকারী দল ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার মুভমেন্টের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন বিলেতি নাগরিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করে যাওয়া কর্মীরা। সেখানেই তারা এমন এই অ্যাপের ধারণা পান বলে জানিয়েছ ব্রিটিশ সংবাদ সাইট স্কাই নিউজ। মার্কিন মানবাধিকার সংস্থা আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজি ইউনিয়নের (এসিএলইউ) বানানো যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপটি 'পুলিশের জবাবদিহিতা চাইতে নাগরিকদের সহায়তার জন্য বানানো হয়েছে।' অ্যাপটি ব্যবহার করে নাগরিকরা পুলিশের কার্যকলাপের ফুটেজ ধারণ করে তা সরাসরি এসিএলইউ- এর কাছে পাঠাতে পারবেন। পরবর্তীতে এ ফুটেজগুলো আইনজীবীদের দিয়ে যাচাই করাবে সংস্থাটি।
ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আটটি অঙ্গরাজ্যে এই অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে আর আরও ১২টি অঙ্গরাজ্যে অ্যাপটি বের করার কথা রয়েছে। বের করার মাত্র ছয় মাসের মাথায় ক্যালিফোর্নিয়াতেই ১ লাখ ৭০ হাজার মানুষ এই অ্যাপ ডাউনলোড করেছেন।
২০১১ সালের ৪ অগাস্ট যুক্তরাজ্যের টটেনহামে পুলিশের গুলিতে নিহত হোন মার্ক ডুগান নামের এক ব্যাক্তি। পুলিশের চোখে ‘সন্দেহভাজন’ হলেও, জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলে এই ‘হত্যাকাণ্ড’। যার ফলে সে বছর বিক্ষোভ শুরু হয় সারা যুক্তরাজ্যে। ক্যালিফোর্নিয়া সফর করা যুক্তরাজ্যের প্রচারণাকর্মীদের মধ্যে একজন ছিলেন শান হল, এই মার্ক ডুগানেরই ভাই।
হল আর তাদের দল ক্যারাভান ফর জাস্টিস বানিয়েছে এমন আরেকটি অ্যাপ। এখন যুক্তরাজ্যে এই অ্যাপটি ছড়িয়ে দিতে কাজ করছেন তারা। হল বলেন, “আমি এমন কিছু ঘটনার কথা শুনেছি, যেখানে পুলিশের কোনও অন্যায়ের ফুটেজ নেওয়া হলে, তারা ওই ফোন নিয়ে ফুটেজগুলো মুছে দেন এমনকি ফোন নষ্টও করে দেন। এই অ্যাপের সুবিধা হচ্ছে আপনি একবার সেন্ড চাপলেই তা পাঠানো হয়ে যাবে।”
চলতি বছর মে মাসে পুলিশি নির্যাতনে নিহত হোন আরেক নাগরিক শেকু বায়োহ। তার আত্মীয় অ্যাড জনসন বলেন, “অনেক সময় সাক্ষীরা এগিয়ে আসতে বা তাদের ধারণ করা ফুটেজ দেখাতে ভয় পান। একারণে তারা আদলতে যেতে চান না। যদি এমন কোন অ্যাপ থাকে যা তারা যা ধারণ করবে তা পাঠিয়ে দেবে, তবে আমরা এটিকে স্বাগত জানাই।”
মোবাইল ফোনে পুলিশি অ্যাকশনের ফুটেজ ধারণ ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ১৯৯১ সালে রডনি কিং নামের এক ব্যাক্তিকে পুলিশের প্রহারের ঘটনার ভিডিও প্রকাশের পর, পুলিশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
গত বছর মিশেল ব্রাউন নামের একজনকে গুলি করে হত্যার পর ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার আন্দোলনের শুরু হয়। এ ঘটনায় সৃষ্ট প্রতিক্রিয়ায় ৪৮ হাজার পুলিশ কর্মকর্তা আক্রমণের শিকার ও ৫১ জন মারা যায় বলে জানায় এফবিআই।
নতুন ধারণার এই অ্যাপ ছড়িয়ে দিতে পারলে, অনেক সময় বের হয়ে আসবে পুলিশের অন্যায় আক্রমণের প্রমাণ। এর ফলে বিনা বিচারে কোনো নাগরিকের উপর পুলিশি আক্রমণ বন্ধে আরও বেশি সোচ্চার হওয়া যাবে বলে দাবি করেছেন অ্যাপটির নির্মাতারা। বিডি নিউজ।
