শিশু সৌরভকে গুলি করে হত্যা চেষ্টা মামলায় গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় এমপি মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের জামিন তৃতীয় দফায় নামঞ্জুর করেছে আদালত। তবে বাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের অন্য একটি মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেছেন একই অদালত।
গাইবান্ধার আমলী আদালতের (সুন্দরগঞ্জ) দায়িত্বে থাকা বিচারক অতিরিক্ত মূখ্য বিচারিক হাকিম মো. মইনুল হাসান ইউছুফ বুধবার দুপুরে এই আদেশ দেন।
জামিন শুনানির সময় এমপি লিটনকে আদালতে উপস্থিত ছিলেন না।
এর আগে বুধবার সকালে এমপি লিটনের অন্যতম আইনজীবি মো. সিরাজুল ইসলাম বাবু গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আমলী আদালতে দু’টি মামলায় জামিনের আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন আদালতের পুলিশ পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) এ কে এম এনামুল করিম।
উল্লেখ্য, গত ১৪ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরার বোনের বাসা থেকে লিটনকে গ্রেফতার করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মাইক্রোযোগে পরদিন গত ১৫ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৬টার দিকে তাকে গাইবান্ধা ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। পরে ওইদিন দুপুর ১২ টায় তাকে গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আমলী আদালতে হাজির করা হলে দায়িত্বে থাকা বিচারক অতিরিক্ত মূখ্য বিচারিক হাকিম মো. মইনুল হাসান ইউছুফ শুনানি শেষে জামিন আবেদন না মঞ্জুর কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন। দ্বিতীয় দফায় গত ২৫ অক্টোবরও একই আদালত তার দু’টি মামলায় জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছিলেন।
প্রসঙ্গত: গত ২ অক্টোবর ভোরে এমপি লিটন মাতাল অবস্থায় গাড়ী নিয়ে সুন্দরগঞ্জ থেকে বাড়ী উপজেলার বামনডাঙ্গায় ফিরার পথে ৯ বছরের শিশু সৌরভকে গুলি করেন। সৌরভের পায়ে তিনটি গুলিবিদ্ধ হয়। পরে তিনি ও তার লোকজন সৌরভের বহনকারী রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালগামী এ্যাম্বুলেন্স পথে আটকে রাখেন। পুলিশ তৎপড়তায় পরবর্তীতে রংপুর পাঠানো হয় সৌরভকে। চিকিৎসা শেষে সৌরভ এখন বাড়ীতে অবস্থান করছেন। এছাড়া ওই দিনেই (২ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এমপি লিটন ও তার লোকজন উপজেলার শাহাবাজ গ্রামের হাফিজার মন্ডলের বাড়িতে হামলা করে ভাংচুর ও লুটপাট করেন। গত ৩ অক্টোবর রাতে এমপি লিটনকে একমাত্র আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় একটি মামলা করেন সৌরভে বাবা সাজু মিয়া। গত ৭ অক্টোবর এমপি লিটনসহ ১০জনকে আসামি করে অপর একটি মামলা দায়ের করেন উপজেলার শাহাবাজ গ্রামের হাফিজার মন্ডল।
