মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলমানদেরকে যে নেতিবাচক দৃষ্টিতে দেখা হয় সেটা নিয়ে করন জোহরের ‘মাই নেম ইজ খান’ সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন শাহরুখ খান। ৫০ তম জন্মদিনে ভারতে চলমান ধর্মীয় অ সহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে মুখ খোলায় ২০১০ সালের সেই সিনেমার রিজওয়ান খানের মতোই এখন নিজ দেশ ভারতেই তাকে পাকিস্তানের এজেন্ট, জঙ্গিদের সমব্যথী বলে আখ্যা দেওয়া হচ্ছে।
সোমবার নিজের জন্মদিনে শাহরুখ সারা দেশের ধর্মীয় অসহিষ্ণুতার পরিবেশ তৈরি নিয়ে কথা বলেন। এসব অবিলম্বে বন্ধ হওয়া উচিত বলেও জানান। যারা প্রতিবাদ জানিয়ে পুরস্কার ফেরাচ্ছেন তাদের সহমর্মিতা জানান। এমনকি পুনের ফিল্ম ইন্সটিটিউটের আন্দোলনে ছাত্রছাত্রীদের পাশে দাঁড়াতে দেখা যায় শাহরুখকে। আর ঘটনার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই তাঁকে নিশানা করেন বিশ্ব হিন্দু পরিষদের নেত্রী সাধ্বী প্রাচী। শাহরুখের সমালোচনা করার পাশাপাশি তাঁকে ব্যক্তিগত আক্রমণ করে 'পাকিস্তানি এজেন্ট' বলতেও ছাড়েননি এই বিতর্কিত নেত্রী। শাহরুখকে পাকিস্তানে চলে যাওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
IMG0
এরপর তাঁকে আজ পাকিস্তানি এজেন্ট বলে আক্রমণ করেন খোদ বিজেপির মহাসচিব কৈলাশ বিজয় বর্গীয়। ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে শাহরুখকে দেশদ্রোহী উল্লেখ করে তিনি বলেন, শাহরুখ খান থাকেন ভারতে, কিন্তু তাঁর মন পড়ে থাকে পাকিস্তানে। শাহরুখের ছবি এখানে কোটি কোটি টাকার বাজার করে, অথচ ওর মনে হয় ভারতে অসহিষ্ণুতার পরিবেশ! এটা দেশদ্রোহ নয় তো কী?
IMG1
হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর সমালোচনার মধ্যে শাহরুখকে পাকিস্তানে চলে আসতে আহ্বান জানান, ২০০৮ সালে মুম্বাই হামলার প্রধান অভিযুক্ত হাফিজ সাঈদ। হাফিজ আজ বুধবার একের পর এক টুইট করে বলেন, ইসলাম ধর্মের কারণে কোনও মুসলিম ভাই এমনকি শাহরুখ খানও ভেদাভেদ বা সাম্প্রদায়িক কোনও সমস্যার মধ্যে পরেন ভারতে তাহলে তারা পাকিস্তানে এসে সানন্দে থাকতে পারেন। আমি আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।
আর হাফিজের এই মন্তব্যের জের ধরে আরো একবার তার উপর ঝাল ঝেড়েছেন বিজেপির আরেক বিতর্কিত নেতা। গোরক্ষপুরের বিজেপি সাংসদ যোগী আদিত্যনাথ শাহরুখকে তুলনা করলেন মুম্বাই জঙ্গি হামলার প্রধান সন্দেহভাজন হাফিজ সাঈদের সঙ্গে তুলনা করে বলেন, হিন্দুরা তাঁর ছবি দেখা ছেড়ে দিলে পথে বসতে হবে শাহরুখ খানকে।
IMG2
ভারতে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বেড়ে চলেছে। অসহিষ্ণুতার প্রতিবাদে সাহিত্যিক-চলচ্চিত্রকাররা জাতীয় পুরস্কার ফেরত দিচ্ছেন।
