রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) ভিসি প্রফেসর মুহম্মদ মিজানউদ্দিন ও প্রো-ভিসি প্রফেসর চৌধুরী সারওয়ার জাহান নিজেদের যোগ্যতায় ভিসি ও প্রো-ভিসি হননি বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটন। এ সময় তিনি জানান, ভিসি কথা দিয়েছিলেন- 'আমি একবার শুধু (ভিসি) হই, লিটন ভাই, আমি আপনার লিস্ট ধরে ধরে চাকরি দিব'।
এ সময় লিটন ভিসি ও প্রোভিসিকে উদ্দেশ্য করে বলেন, 'আপনি-আপনারা যোগ্যতায় ভিসি-প্রোভিসি হননি, আপনি আওয়ামী লীগ করেন বলে আপনি ভিসি-প্রোভিসি হয়েছেন। এ কথাটি ভুলে যাবেন না। যাদের পিঠ দিয়ে সিঁড়ি বানিয়ে আজকে ভিসি-প্রো-ভিসি হয়েছেন, দয়া করে আল্লাহর ওয়াস্তে সেটার প্রতিদান দেন। তা না হলে যখন সবকিছু হারিয়ে যাবে, রাস্তা দিয়ে চলা কিন্তু কঠিন হয়ে যাবে।'
বুধবার (৪ নভেম্বর) দুপুরে জেলহত্যা দিবস উপলক্ষে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের উদ্যোগে সংগঠনের টেন্টে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রাবি শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান রানার সভাপতিত্বে এবং ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক খালিদ হাসান বিপ্লবের সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সাবেক সদস্য সাইদুল ইসলাম রুবেল ও রাজশাহী মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক প্রচার সম্পাদক মীর ইসতিয়াক লিমন প্রমুখ। এ সময় মহানগর আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা. তবিবুর রহমান শেখ, সাবেক সহ-সভাপতি মীর ইকবাল, মহানগর স্বেচ্ছাসেক লীগের সাধারণ সম্পাদক জেডু সরকার, রাবি ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আতিকুর রহমান সুমন, যুগ্ম-সম্পাদক গোলাম কিবরিয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু ও মেহেদী হাসান বারী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
রাবিতে নিয়োগ প্রসঙ্গে খায়রুজ্জামান লিটন বলেন, 'রাবি প্রশাসন বলতে যে দুইজনকে বুঝায়, তারা আমাদেরই খুব কাছের মানুষ। আমার তো ভীষণ কাছের মানুষ। কিন্তু কাছের মানুষে থেকে লাভ কি? কাছের মানুষ যদি দলের নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন না করেন!'
এরপর তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, তাদের একজন আমার বন্ধুর মতো। তিনি কথা দিয়েছিলেন, আমি একবার শুধু হই, লিটন ভাই, আমি আপনার লিস্ট ধরে ধরে চাকরি দিব। আমরা লিস্ট দিয়েছিলাম প্রায় বছর দেড়-দুইয়েক আগে। সেই লিস্ট কোথায় গেল? আমি জানি না, তাদের বাড়িতে ডিম পারছে কিনা, ডিমে তা দিচ্ছে কিনা? জানি না। কিন্তু তাদের শিক্ষক নিয়োগ অব্যাহত রয়েছে।'
রাবি’র বর্তশান প্রশাসন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রশাসন এমন মন্তব্য করে তিনি বলেন, 'তাদের সেইভাবেই কাজ করা উচিত, চলা উচিত ছিল। বিএনপি-জামায়াতের নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট যদি একবারে ৫৪৪ জনকে নিয়োগ দিতে পারে, কোনো কিছুর চিন্তা ও তোয়াক্কা না করে, আপনারা কি ১৪৪ জনকেও দিতে পারেন না? এতো আপনারা স্বচ্ছ হয়ে গেলেন? এই বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে প্রায় ৫০০ পদ শূন্য আছে। স্বাধীনতার পক্ষের দেড়শ-দুইশ’ ছেলেদের চাকরি কি দেওয়া যায় না? এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অফিসার, তৃতীয়, ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী পদে রাজাকার বা আলবদর বা বিএনপির আদর্শে দিক্ষিতদের সংখ্যা অনেক ভারি। আমরা কি সেই সংখ্যা আরো ভারি করবো? না আমাদের নেতাকর্মীদের নিয়ে এসে সেই সংখ্যাকে নিচে নামিয়ে দিয়ে আমরা সংখ্যাগড়িষ্ঠ হবো? বিশ্ববিদ্যালয় শান্ত রয়েছে, আমরা শান্ত রেখেছি বলে।'
এ প্রসঙ্গে মতামতের জন্য একাধিকবার যোগাযোগের করা হলেও রাবি’র ভিসি-প্রো-ভিসিকে পাওয়া যায়নি। অপরাপর সাংবাদিকদের কাছেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে জানা গেছে।
