কানাডার তেইশতম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বুধবার রাজধানী অটোয়াস্থ পার্লামেন্টের রিডো হলে শপথ গ্রহণ করে দায়িত্ব নিলেন জাস্টিন ট্রুডো। এ সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী জাঁ ক্রেটিন, দুই সাবেক গভর্নর জেনারেল, প্রথম নেশনস জাতীয় চীফ পেরি বেলেগার্ডে, আরসিএমপি কমিশনার বব পলসনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
তার আগে বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী স্টিফেন হারপার আনুষ্ঠানিকভাবে গভর্নর জেনারেলের অফিসে সকাল সাড়ে নয়টায় গভর্নর জেনারেলের সাথে একটি সংক্ষিপ্ত সভায় তার পদত্যাগপত্র জমা দেন।
IMG0
এদিকে জাস্টিন ট্রুডো একটি বাসে করে মন্ত্রি সভার সদস্যদের নিয়ে পার্লামেন্ট ভবনে আসেন এবং হাসি মুখে স্ত্রী সুফিয়া গ্রেগরীর হাত ধরে রিডো হলে প্রবেশ করেন। সাথে ছিলো তাদের তিন সন্তান। একত্রিশ সদস্য বিশিষ্ট মন্ত্রি সভার (তিনি ছাড়া) ১৫ জন করে নারী-পুরুষ মন্ত্রি নিয়ে জেন্ডার সমতায় ভারসাম্য করে সবাইকে চমকে দেন জাস্টিন। পরে তিনি গভর্নর জেনারেল ডেভিড জনস্টনের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক ভাবে দেখা করেন।
প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ইন্টারগভর্মেন্ট অ্যাফেয়ার্স এবং যুব মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব নিয়েছেন। এছাড়াও গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীরা হলেন- পররাষ্ট্রঃ স্টিফেন ডিয়ন, ইমিগ্রেশনঃ জন ম্যাককালাম, আদিবাসী ও উত্তরাঞ্চলীয় বিষয়কঃ ক্যারোলিন বেনেট, অর্থঃ বিল মোরনেঊ, স্বাস্থ্যঃ জেন ফিলপট প্রমুখ। আগামী ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নতুন সরকারের প্রথম সংসদ অধিবেশন শুরু হবে।
IMG1
উল্লেখ্য, কানাডার ৪২তম সাধারণ নির্বাচনে জয়লাভ করে ২০০৪ সালের পর আবারও ক্ষমতায় এসেছে লিবারেল পার্টি। আর দলের নেতা জাস্টিন ট্রুডো হলেন দেশটির নতুন প্রধানমন্ত্রী। টানা ৯ বছর ক্ষমতায় থাকা কনজারভেটিভ পার্টিকে হারিয়ে রীতিমত চমক তৈরি করে ট্রুডো। তার বাবা পিয়েরে ট্রুডোও কানাডার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ১৯৬৮ সালের ‘ট্রুডোম্যানিয়া’র মধ্য দিয়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসেন। সে সময় কানাডার তরুণ ও প্রবীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে পিয়েরের যে জনপ্রিয়তার সৃষ্টি হয়েছিল, তা ‘ট্রুডোম্যানিয়া’ হিসেবে বিখ্যাত। ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত দেশটির প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সাবেক স্কুল শিক্ষক জাস্টিন ট্রুডো ২০০৮ সালে প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ৪৩ বছর বয়সী এই নেতা ২০১৫ সালে নির্বাচনী প্রচারণার সময়ই পরিবর্তনের আভাস দেন। তিনি তরুণদের অংশগ্রহণে ও প্রবীণদের পরামর্শে সরকার পরিচালনার আশ্বাস দেন সে সময়।
