জুনিয়র বুশের সহযোগীদের সমালোচনায় সিনিয়র বুশ

আপডেট : ০৬ নভেম্বর ২০১৫, ২০:৪০
কয়েক দিন আগে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার ইরাক যুদ্ধের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন। আর ইরাক যুদ্ধের প্রধান উদ্যোক্তা জুনিয়র বুশ নিজে কিছু না বললেও তার বাবা সিনিয়র জর্জ বুশ বলেছেন তার ছেলে ক্ষমতায় থাকার সময় অনেক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সেসব ‘ভুল সিদ্ধান্তের’ দায় চাপিয়েছেন বুশের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ড ও ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির উপরে।  
 
এক স্মৃতিকথায় মার্কিন সরকারের প্রভাবশালী এ দুই সাবেক কর্তাব্যক্তিকে ‘অহংকারী’, ‘দাম্ভিক’ ও ‘নিজ সাম্রাজ্যের রাজা’ আখ্যায়িত করেছেন সিনিয়র বুশ । তার জীবনীকার জন মেয়াচেমের বরাত দিয়ে নিউ ইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ‘ডেসটিনি অ্যান্ড পাওয়ার: দ্য আমেরিকান ওডিসি অব জর্জ হারবার্ট ওয়াকার বুশ’ নামের এক জীবনী গ্রন্থে এ বিষয়গুলো থাকবে, যা বাজারে আসবে আগামী সপ্তাহে। সাক্ষাৎকার ভিত্তিক এ বইয়ে ছেলে জর্জ বুশেরও সমালোচনা করেছেন ‘বড়’ বুশ। তিনি লিখেছেন, ওর বাগাড়ম্বর পূর্ণ বক্তব্য নিয়ে আমি প্রায়ই উদ্বিগ্ন থাকতাম।
 
সিনিয়র বুশ ১৯৮৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪১তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন। তার ছেলে জর্জ বুশ ২০০১ সালে একই পদে নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর নিউ ইয়র্কে সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে রামসফেল্ড প্রেসিডেন্টকে সহায়তার ক্ষেত্রে তার দায়িত্ব ‘অত্যন্ত বাজেভাবে’ পালন করেছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র বুশ। সে যা করেছে, তা আমি পছন্দ করতে পারি না। অন্যরা কি ভাবছে তা থোড়াই কেয়ার করার প্রবণতা ছিলো তার মধ্যে। নাম কামাতেই তার বেশি আগ্রহ ছিল।
 
IMG0
 
এ কারণেই তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে মন্তব্য করেন সিনিয়র বুশ। ডোনাল্ড রামসফেল্ড ২০০১ থেকে ২০০৬ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। দায়িত্ব নেয়ার পর ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনিও ‘অপ্রয়োজনীয়ভাবে কঠোর’ হয়ে গিয়েছিল মন্তব্য করে সিনিয়র বুশ বলেন, আমি যে চেনিকে চিনতাম, যার সাথে অনেকগুলো কাজ করেছি, দায়িত্ব পাওয়ার পর সেই চেনি যেন একেবারেই বদলে গেল। চেনির ‘আহাম্মকসুলভ একগুঁয়েমি’ প্রেসিডেন্টকেও ভুল পথে ঠেলে দিয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন সিনিয়র বুশ। চেনি নিজের একটি সাম্রাজ্য তৈরি করে নিয়েছিলেন, জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে যা প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করছিল। জর্জ বুশের দুই মেয়াদেই ডিক চেনি ছিলেন ভাইস-প্রেসিডেন্ট।
 
সিনিয়র বুশের এসব বক্তব্য বিপাকে ফেলতে পারে জেব বুশকে, যিনি ২০১৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে রিপাবলিকান পার্টির মনোনয়নপ্রত্যাশী। বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিবারের ‘অন্য প্রেসিডেন্টদের চেয়ে নিজেকে আলাদা’ দাবি করা জেবকে হয়তো আগামী কয়েক সপ্তাহ ‘পারিবারিক ঐতিহ্য ও দ্বন্দ্ব’ নিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে। অবশ্য তাতে ‘প্রচারের আলো’ও জুটবে তার ভাগ্যে। গার্ডিয়ান।