ভারতে প্রথম 'তৃতীয় লিঙ্গ' স্বীকৃত পুলিশ কর্মকর্তা পৃথিকা

আপডেট : ০৭ নভেম্বর ২০১৫, ১৭:২৯
 
ভারতের প্রথম 'তৃতীয় লিঙ্গ'র পুলিশ কর্মকর্তা হিসেবে স্বীকৃতি পেলেন চেন্নাইয়ের কে পৃথিকা যশিনি। বিবিসি তার এক প্রতিবেদনে জানায়, তিনি পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদে যোগ দিয়েছেন।
 
পৃথিকা পুরুষ হিসেবে জন্মগ্রহণ করলেও অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করেন। তিনি ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় তামিলনাড়ু প্রদেশে পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর পদে আবেদন করেছিলেন। কিন্তু তামিলনাড়ু  ইউনিফর্মড সার্ভিস রিক্রুটমেন্ট বোর্ড  (টিএনইউএসআরবি) তাকে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ হিসেবে চাকরি দিতে অস্বীকৃতি জানায়।
 
পৃথিকা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামেন। চেন্নাইয়ের উচ্চ আদালত তার পক্ষে রায় দেয়। ঐতিহাসিক রায়ে আদালত টিএনইউএসআরবিকে  জানায়, সাব ইন্সপেক্টর  পদে যোগ দেওয়ার জন্য যেসব যোগ্যতা প্রয়োজন তার সবই যশিনির রয়েছে। অতএব তাকে অনতিবিলম্বে যেন চাকরিতে নিযুক্ত করা হয়।
 
উচ্চ আদালত একই সঙ্গে  নির্দেশ দিয়েছে, এখন থেকে চাকরিতে নিয়োগের সময় রূপান্তরকামীদের জন্য ‘থার্ড ক্যাটাগরি’র উল্লেখ করতে হবে। জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে সাব ইন্সপেক্টর পদে করা যশিনির আবেদন খারিজ করে দেয় টিএনইউএসআরবি। এর বিরুদ্ধে তিনি উচ্চ আদালতে আবেদন করেন।
 
চলতি বছরের সেপ্টেম্বরেই আদালতের নির্দেশে মৌখিক পরীক্ষা দেওয়ার অনুমতি পান যশিনি। তাতে উৎরেও যান। সে সময় তাকে পুরুষ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও তিনি এখন নারী। উচ্চ আদালত জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ীই একই ধরনের সুবিধা পাওয়ার অধিকার যশিনির মতো সকল তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের রয়েছে।
 
আদালতে তার পক্ষে রায় দেওয়ার পর পৃথিকা বলেন, 'আমি খুবই শিহরিত। তৃতীয় লিঙ্গের সম্প্রদায়ের জন্য এটি একটি নতুন সূচনা।' ভারতে প্রায় ২০ লাখ তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ রয়েছেন।
 
টাইমস অব ইন্ডিয়া তাদের এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তামিলনাড়ু পুলিশের তালিকায় ইতোমধ্যে তৃতীয় লিঙ্গের তিনজন কনস্টেবল রয়েছেন। তবে পৃথিকা হচ্ছেন ভারতের প্রথম রূপান্তরকামী তৃতীয় লিঙ্গের সরকারি কর্মকর্তা।
 
পৃথিকার আগের নাম ছিল প্রদীপ কুমার। কম্পিউটার স্টাডিজ কোর্স সম্পন্ন করার আগেই তিনি পিতা-মাতাকে ছেড়ে চলে যান এবং অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে লিঙ্গ পরিবর্তন করেন।
 
পৃথিকার বরাতে ভারতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যম জানিয়েছে, ছোটবেলা থেকেই পৃথিকা পুলিশ কর্মকর্তা হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন। বিডি নিউজ।