এমপি লিটনের জামিন মঞ্জুর

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৫, ১৪:০৭

শিশু সৌরভকে গুলি করে হত্যা চেষ্টা মামলায় গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের সরকার দলীয় এমপি মো. মঞ্জুরুল ইসলাম লিটনের জামিন মঞ্জুর করেছে আদালত। সংসদ অধিবেশন চলা পর্যন্ত তার এই জামিন বহাল থাকবে।

রবিবার গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ আমলী আদালতে চতুর্থ দফায় জামিনের আবেদন করা হলে অতিরিক্ত মূখ্য বিচারিক হাকিম মইনুল হাসান ইউছুফ তার জামিন মঞ্জুর করেন।

 

এর আগে, বুধবার একই আদালতে এমপি লিটনের বিরুদ্ধে দায়ের করা হত্যাচেষ্টা ও বাড়ি ভাঙচুরের দুটি মামলায় জামিন আবেদন করা হয়। বিচারক বাড়ি ভাঙচুরের মামলায় জামিন মঞ্জুর করলেও হত্যাচেষ্টা মামলায় জামিন নামঞ্জুর করেন।

পরের দিন বৃহস্পতিবার ওই আদালতেই চতুর্থ দফায় জামিনের আবেদন এমপি লিটনের আইনজীবি মো. সিরাজুল ইসলাম বাবু। পরে বিচারক অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মইনুল হাসান ইউছুফ রবিবার জামিন আবেদনের শুনানি দিন ধার্য করেন।

এমপি লিটনের আইনজীবি মো. সিরাজুল ইসলাম বাবু জামিনের প্রতিক্রিয়ায় বলেন, ‘রবিবার থেকে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে এমপি লিটন যাতে অংশ নিতে পারেন সেজন্য আদালতে জামিন আবেদন দাখিল করা হয়। এ বিবেচনায় শুনানি শেষে বিচারক তার জামিন মঞ্জুর করেছেন। এখন এমপি লিটনের কারাগার থেকে মুক্ত হতে আর কোন বাধা নেই। জামিনের আদেশের কপি কারাগারে পৌঁছলেই মুক্তি পাবেন তিনি।'

প্রসঙ্গত, সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্ধ ইউনিয়নের গোপালচরণ এলাকায় ২ অক্টোবর ভোরে এমপি লিটনের লাইসেন্স করা পিস্তুলের গুলিতে আহত হয় গোপালচরণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র শাহাদত হোসেন সৌরভ (১২)। এ ঘটনায় সৌরভের বাবা বাদী হয়ে ৩ অক্টোবর এমপি লিটনকে একমাত্র আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করেন।

১৪ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরার বোনের বাসা থেকে এমপি লিটনকে গ্রেফতার করেন ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরের দিন ভোরে তাকে মাইক্রোযোগে গাইবান্ধা ডিবি কার্যালয়ে আনা হয়। এরপর তাকে গাইবান্ধা আমলী আদালতে (সুন্দরগঞ্জ) হাজির করা হয়। পরে বিচারক অতিরিক্ত জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মইনুল হাসান ইউছুফ শুনানি শেষে জামিন আবেদন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।  

এছাড়া এমপি লিটনের বিরুদ্ধে একই দিনে বাড়ি ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের অভিযোগে ৬ অক্টোবর সুন্দরগঞ্জ থানায় আরও একটি মামলা করেন সুন্দরগঞ্জ উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের উত্তর সাহাবাজ গ্রামের হাফিজার রহমান।

গত ১৫ অক্টোবর থেকে এমপি লিটন ডিভিশন অনুযায়ী জেলা কারাগারে প্রথম শ্রেণির মর্যাদা পান। তার কক্ষে খাট, চেয়ার, টেবিল, টেলিভিশন ও একটি জাতীয় পত্রিকা দেওয়া হয়। এছাড়া সার্বক্ষনিক দেখাশুনার জন্য একজন কর্মচারীও ছিল।

অন্যদিকে সৌরভ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু সার্জারি বিভাগে ২৪ দিন চিকিৎসা নিয়ে গত ২৬ অক্টোবর দুপুরে বাড়ি ফিরেছে।