দীর্ঘদিনের অচলায়তন ভেঙ্গে একটি উদ্ভাবনী সংস্কৃতি গড়ে তোলা হচ্ছে বলে মন্তব্য করলেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। তিনি বলেন, 'মাঠ পর্যায় থেকে শুরু করে সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায় পর্যন্ত ইনোভেশন টিম গড়ে তোলা হয়েছে। এইসব টিমের সদস্যরাই বিভিন্ন ধরনের উদ্ভাবনী উদ্যোগ গ্রহণ করছেন।'
'রূপকল্প ২০২১' বাস্তবায়নে তরুণদের উৎসাহিত করতে 'ব্র্যান্ডউইৎজ-১৫' জাতীয় পর্যায়ের উদ্ভাবনী প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, 'আমি একটি কথা বেশ জোর দিয়ে বলতে চাই, উদ্ভাবনের জন্য ঝুঁকি নিতে হবে, উদ্ভাবকদের ভুল করার সুযোগ দিতে হবে। তবে একই ভুল বার বার করা যাবেনা। এই সুযোগে আমি এটুআই প্রোগ্রাম এবং আইবিএ কে ধন্যবাদ জানাতে চাই এ ধরণের একটি প্রতিযোগিতা আয়োজনের জন্য।'
এই প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছে আইবিএ'র প্রজেক্ট ২২। এ ছাড়াও প্রতিযোগীতায় দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেছে আইবিএ'র আভান্ট গার্ড এবং তৃতীয় স্থান অধিকার করেছে বিইউপি'র (বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অফ প্রফেশনালস) টিম ৩৬০ ডিগ্রী।
ব্র্যান্ডউইৎজ-এর এবারের আসরটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাস্তবায়নাধীন একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ)-এর একটি যৌথ উদ্যোগ। শনিবার প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের শাপলা হলে চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ ৬টি দলের মধ্যে বিজয়ী ১ম, ২য় এবং ৩য় স্থান অধিকারীদের হাতে সম্মাননা ও চেক তুলে দেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম।
বিপণনধর্মী এই প্রতিযোগিতার মূল উদ্দেশ্য ছিল উদ্ভাবনী সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে দেশব্যাপী ২০টি পাবলিক-প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্ভাবনী ধারণার বিকাশ, তাদের উদ্ভাবনকে উৎসাহিত করা এবং প্রয়োজনীয় পৃষ্ঠপোষকতা প্রদান করা। মূলত ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নের পথে বিভিন্ন নাগরিক সেবা (ই-সেবা), সেবা প্রদানে উদ্ভাবনী উদ্যোগসহ বিভিন্ন বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রচার-প্রচারণার কৌশল ও কর্মপন্থা নির্ধারণে এ প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
IMG0
উল্লেখ্য, গত ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫ তারিখে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্র্যান্ডউইৎজ প্রতিযোগিতাটির ২০১৫ আসরের সূচনা হয়। সারা দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্তকরণে বিভিন্ন রোড-শোর আয়োজন করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদনের ভিত্তিতে প্রথম রাউণ্ডে নির্বাচিত ৪৮টি দল ইস্যুভিত্তিক সমস্যার বিভিন্নমুখি সমাধানের পথ খুঁজে বের করে। বিচারকমন্ডলী সেরা ২৪টি দলকে পরবর্তী রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত করেন। দ্বিতীয় রাউণ্ডে প্রতিযোগিদের অভিনব বিপণন কার্যক্রমের ধারণাগুলো বিশ্লেষণ করে বিচারকমন্ডলী সেরা ৬টি দলকে চূড়ান্ত রাউন্ডের জন্য নির্বাচিত করেন।
প্রতিযোগিতায় ফাইনাল রাউন্ডে নির্বাচিত ৬টি গ্রুপ ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্তকরণ (Effective communication to ensure that the common people actively participate in shaping digital Bangladesh) এবং জাতীয় তথ্য বাতায়ন, তথ্যকোষ, রুরাল ই-কর্মাস, স্মার্ট মাইগ্রেশন, জয়িতা ও মানব উন্নয়ন মিডিয়া এই ৬টি বিষয়কে নিয়ে বিজনেস মডেল তৈরি করে বিচারক প্যানেলের সামনে উপস্থাপন করেন। ৬টি উপস্থাপনা পর্যবেক্ষণ করে বিচারকমন্ডলী প্রথম, দ্বিতীয় এবং তৃতীয় স্থান নির্বাচন করেন।
আমন্ত্রিত অতিথিবৃন্দ বিজয়ী দলগুলোর হাতে মোট ৪ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার চেক তুলে দেন। চূড়ান্ত রাউন্ডে বিচারকমন্ডলীর মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আসিফ ইকবাল, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর (মার্কেটিং), মেঘনা গ্রুপ; সৈয়দ আলমগীর, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, এসিআই; রূপালী চৌধুরী, মার্কেটিং ডিরেক্টর, বার্জার পেইন্টস এবং আনীর চৌধুরী, পলিসি এডভাইজর, এটুআই প্রোগ্রাম।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-এর মুখ্য সচিব জনাব মো. আবুল কালাম আজাদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. নাসরিন আহমদ।
সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন) এবং একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের প্রকল্প পরিচালক কবির বিন আনোয়ার। এ ছাড়া ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. এ কে এম সাইফুল মজিদ, এটুআই প্রোগ্রামের জনপ্রেক্ষিত বিশেষজ্ঞ নাঈমুজ্জামান মুক্তা, আইবিএ কমিউনিশকেশন ক্লাবের মডারেটর সুতপা ভট্টাচার্য, আইবিএ-এর শিক্ষকমণ্ডলী ও শিক্ষার্থীরা, এটুআই প্রোগ্রামের কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমকর্মীবৃন্দ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
