ট্রানজিট দেশের প্রথম সর্বদলীয় সিদ্ধান্ত: অর্থমন্ত্রী

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৫, ২১:০৭
 
অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেছেন, বাংলাদেশের ট্রানজিট দেশ হওয়ার সিদ্ধান্ত দেশের প্রথম সর্বদলীয় সিদ্ধান্ত। আঞ্চলিক কানেকটিভিটির স্বার্থে ট্রানজিট প্রদানের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের সমর্থন আছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রবিবার রাজধানীর শেরে-বাংলা নগরে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ বিজনেস কনক্লেভ: দ্য ওয়ে ফরোয়ার্ড’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর অর্থনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা ড. মসিউর রহমান, এফবিসিসিআই সভাপতি আব্দুল মাতলুব আহমাদ, ঢাকা নিযুক্ত ভারতের রাষ্ট্রদূত পঙ্কজ শরণ, ইন্ডিয়া চেম্বার অব কর্মাসের মহাসচিব রাজীব সিং।
 
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী বলেন, ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক কানেকটিভিটি হলো পূর্বশর্ত। এ জন্য বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের মধ্যে সম্পাদিত যান চলাচল চুক্তি দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এই সংযোগ স্থাপনের নির্মাণকাজ সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে (পিপিপি) সম্পন্ন করা যেতে পারে বলে তিনি মত দেন। নেপাল, ভুটান ও ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এই সংযোগ স্থাপনের এখন উত্তম সময়। বাংলাদেশ ট্রানজিট দেশ হওয়ায় সুবিধার কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আন্তদেশীয় যান চলাচল চুক্তির ফলে বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটানের পরিবহন যোগাযোগ খুব সহজ হবে।
 
তিনি আরো বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে একটি কমন মার্কেট থাকতে পারে। পাকিস্তানকেও এতে রাখা উচিত। এটি বিনিয়োগ, লেনদেন, অবকাঠামোর উন্নয়নসহ সকল ধরনের উন্নয়নে সহায়তা করবে। ভারত ও বাংলাদেশের বেসরকারি ব্যবসায়ীদের বিনিয়োগ ও লেনদেনের দুই দেশের সরকার সহায়তা করবে বলেও অর্থমন্ত্রী উল্লেখ করেন।
 
ড. মসিউর রহমান বলেন, ভারতকে মংলা বন্দরে ও ভেড়ামারায় দুটি অর্থনৈতিক অঞ্চল দেয়া হয়েছে। এরমধ্যে মংলা ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার প্ল­ান্ট স্থাপন করবে ভারত। ভারতীয় বিনিয়োগ বাড়াতে দু’দেশের মধ্যে যোগাযোগ সংযোগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। একই সাথে যেসব ভারতীয় শ্রমিক এখানে কাজ করবে, তাদের নিরাপত্তার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
 
বাংলাদেশে ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপন করতে দেয়ার সিদ্ধান্ত খুবই ভালো সিদ্ধান্ত উল্লে­খ করে ভারতীয় হাই কমিশনার পঙ্কজ সরণ বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং আঞ্চলিক কানেকটিভিটি বাড়াতে গত কয়েকবছরে আমরা অনেক দূর এগিয়েছি। দ্বিপক্ষীয় ও বহপক্ষীয় একাধিক চুক্তি সম্পাদিত হয়েছে। এখন এগুলো বাস্তবায়নের উপযুক্ত সময়। ভবিষ্যতেও ভারত বাংলাদেশকে সঙ্গে নিয়ে চলতে চায়। দুই দেশের সম্পর্ক এখন মানুষের উন্নয়নের সম্পর্ক।
 
তিনি বলেন, আমি আশা করি ভারতের যে ধরনের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে এসেছে, বাংলাদেশ থেকেও একই ধরনের ব্যবসায়ী প্রতিনিধি দল ভারত ভ্রমণ করবে।
 
বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে বিদ্যমান ৫৫০ কোটি মার্কিন ডলারের বাণিজ্যিক ঘাটতির কথা উল্লেখ করে এফবিসিসিআই সভাপতি মাতলুব আহমাদ বলেন, এই ঘাটতি হ্রাস করতে ভারতীয় বিনিয়োগকারীদের এখানে আসতে হবে। কেবল বাংলাদেশে ভারতীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে এই ঘাটতি পূরণ করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।
 
উল্লেখ্য, তিন দিনব্যাপী এই ভারতীয় পণ্য মেলার ৬০টি স্টলে জ্বালানি, ইলেকট্রিক্যাল সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিকস পণ্য ও শিল্পের যন্ত্রপাতি প্রদর্শিত হয়েছে। বিপুল-সংখ্যক ব্যবসায়ী ও দর্শণার্থীরা মেলা পরিদর্শন করেছেন।