মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর চুক্তির খসড়া মন্ত্রিসভায় উঠবে সোমবার

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৫, ২১:৫৭
 
বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় তিন বছরে প্রায় ১৫ লাখ কর্মী পাঠানোর বিষয়ে দুই দেশের সরকারের মধ্যে সমঝোতার যে খসড়া চূড়ান্ত হয়েছে, সেটি অনুমোদনের জন্য সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে ওঠার কথা রয়েছে। মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর চলতি নভেম্বরেই দুই দেশের মধ্যে ‘জিটুজি প্লাস’ সমঝোতা স্বাক্ষর হবে। প্রসঙ্গত, গত ৩ নভেম্বর ঢাকায় মালয়েশীয় প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের উচ্চ পযায়ের কর্মকর্তাদের বৈঠকে সমঝোতার এই খসড়া চূড়ান্ত করা হয়।
 
প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী নূরুল ইসলাম বিএসসি জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর কাজ পাওয়ার জন্য যে ‘সিনারফ্ল্যাক্স’-এর কথা বলাবলি হচ্ছিল, সেটিকে বাদ দেয়া হয়েছে। এ প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে দুই দেশের বৈঠকে কোনো আলোচনাও হয়নি। বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সিস-বায়রাসহ জনশক্তি রপ্তানি বিষয়ক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশের ক্লিন ইমেজের সকল জনশক্তি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান বা রিক্রুটিং এজেন্সি মালয়েশিয়ায় সব সেক্টরে কর্মী পাঠাতে পারবে। প্রত্যেক কর্মী যেতে খরচ (অভিবাসন) হবে ৪২ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রে কোনো সিন্ডিকেটের সুযোগ থাকবে না। বায়রার সদস্যসহ যে কোনো রিক্রুটিং এজেন্সিই লোক পাঠাতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে অবশ্যই যাদের রিক্রুটিং এজেন্সির ক্যাপাবিলিটি ও ব্যবসার ট্র্যাক রেকর্ড বা অতীত সুনাম বিবেচনা করা হবে।
 
প্রসাবী কল্যাণ সচিব ড. ইফতেখার হায়দার জানান, চূড়ান্ত হওয়া খসড়াটি মালয়েশিয়া সরকারও তাদের মন্ত্রিসভায় তুলবে। দুই দেশের মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর এ মাসের মধ্যেই চুক্তি স্বাক্ষর হবে বলে আশা করা যায়।
 
বায়রা সভাপতি আবুল বাশার ইত্তেফাকের সঙ্গে আলাপকালে বলেন, ‘প্রধামন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনা অনুযায়ী প্রবাসী কল্যাণমন্ত্রীর সিদ্ধান্তে বায়রার সদস্যসহ সকল রিক্রুটিং এজেন্সি সন্তুষ্ট। মন্ত্রীর সিদ্ধান্তের কারণেই সিন্ডিকেট গঠনের তত্পরতা ভেস্তে গেছে। এর ফলে সবাই কর্মী পাঠানোর প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবে। তবে এই বিপুল সংখ্যক কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়ার নিয়ন্ত্রণ পেতে অসাধু চক্রটি নতুন করে তত্পরতা চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে মন্ত্রণালয়সহ সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।’
 
তিনি জানান—কর্মী পাঠানোর পুরো প্রক্রিয়াটি যেন স্বচ্চতার মধ্য দিয়ে হয়, মালয়েশিয়া সরকার ও দেশটির সংসদও এ বিষয়ে ইতোমধ্যে সেটির ওপর জোর দিয়েছে। মালয়েশিয়ার সংসদ বলেছে, কর্মী নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো মধ্যস্থতাকারী রাখা হবে না।