দলের মন্ত্রীদের আগে ‘দূত’ পদ ছাড়ার ঘোষণা এরশাদের

আপডেট : ০৮ নভেম্বর ২০১৫, ২৩:৪২

সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকা দলের নেতাদের আগে নিজেই প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত পদ ছাড়তে রাজি বলে দলীয় সংসদ সদস্যদের জানালেন জাতীয় পার্টি (জাপা) চেয়ারম্যান এইচএম এরশাদ। গতকাল রবিবার সংসদ ভবনে বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয়ে জাপার সংসদীয় দলের বৈঠকে একথা জানিয়ে দলের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন ‘আমরা সত্যিকারের বিরোধীদল হতে চাই। সরকারে থাকায় মানুষ আমাদের সমালোচনা করছে। টিআইবি বলছে, আমরা কথিত প্রধান বিরোধীদল, আমরা নাকি সরকারের লেজুড়বৃত্তি করছি। সরকারে থাকার কারণে এসব কথা আসছে। এজন্য সরকার থেকে আমাদের বের হয়ে আসা দরকার। আমি অনেকদিন ধরেই এটা বলছি। আমার দলের মন্ত্রীরা বলেন-আমি কেন পদ ছাড়ি না। সে কারণে এখন সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমিই আগে পদত্যাগ করব। এরপর সবাইকে সরকার থেকে বের হয়ে আসতে হবে।’

 
গতকাল শুরু সংসদের অষ্টম অধিবেশনের প্রথমদিনে মাগরিবের নামাজের বিরতির ফাঁকে ২৫ মিনিট স্থায়ী এই বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন জাপার সংসদীয় দলের সভানেত্রী ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ। বৈঠকে এরশাদ ও রওশন দু’জনেরই অনুসারী সংসদ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ৩০ জনের বেশি সংসদ সদস্য এতে যোগ দেন। বৈঠকে মন্ত্রিসভায় থাকা জাপা নেতা এবং সমবায় ও পল্লী উন্নয়ন প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙ্গা উপস্থিত ছিলেন। তবে মন্ত্রিসভায় থাকা দলটির অপর দুই নেতা পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মুজিবুল হক চুন্নু ছিলেন না। তারা গতকাল সংসদ অধিবেশনেও যাননি।
 
বৈঠকশেষে জাপার পাঁচজন সংসদ সদস্যদের সঙ্গে কথা হয় এই প্রতিবেদকের। তারা এরশাদ আগে ‘বিশেষ দূত’ পদ ছাড়ার কথা বলেছেন জানিয়ে ‘ইত্তেফাক’কে বলেন ‘এরশাদের বক্তব্যের পর রওশন এরশাদ বলেছেন, আগে বা পরে নয়, মন্ত্রিসভা থেকে সবাইকে একসঙ্গেই বের হয়ে আসতে হবে। আমরা সত্যিকারের বিরোধীদল হতে চাই। সামান্য সুযোগ-সুবিধার জন্য অযথা দুর্নাম নেয়ার দরকার কী? তাছাড়া যারা মন্ত্রিসভায় আছেন, তাদের মাধ্যমে দল এবং আমাদের নেতা-কর্মীদেরও কোনো উপকার হচ্ছে না। তাহলে বের হয়ে আসাই তো ভালো।’
 
মন্ত্রিসভা থেকে বের হয়ে আসার বিষয়ে এরশাদ-রওশনের বক্তব্যের কোনো জবাব না দিয়ে চুপ ছিলেন প্রতিমন্ত্রী রাঙ্গা। যদিও এর আগে বিভিন্ন সময়ে এরশাদ যখন দলের মন্ত্রীদের পদত্যাগ করতে বলেছিলেন, তখন রাঙ্গা গণমাধ্যমকে বলেছিলেন ‘স্যার (এরশাদ) নিজেই তো পূর্ণমন্ত্রীর মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত। কাজেই নিজে মন্ত্রী থেকে অন্যদের পদত্যাগের কথা বলা কতটুকু নৈতিক!’
 
সূত্রে জানা গেছে, দেশে দুই বিদেশি নাগরিক ও দুই পুলিশ সদস্যসহ সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ডগুলো এবং আইন-শৃঙ্খলা সম্পর্কে এবারের অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে ফ্লোর নিয়ে বক্তব্য রাখার জন্য দলীয় এমপিদের পরামর্শ দিয়েছেন এরশাদ ও রওশন। এছাড়া বিরোধীদলের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকারের সকল নির্বাচন করার সরকারি সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন জাপা চেয়ারম্যান। এ বিষয়ে এরশাদ বলেছেন, ‘এরকম একটি বড় ধরনের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেয়া হলো, অথচ সরকার কারো সঙ্গেই আলোচনা করেনি, জনগণের মতামত নেয়া হয়নি। এমনকি আমাদের সঙ্গেও কোনো কথা বলেনি।’ এ ব্যাপারেও সংসদে কথা বলার জন্য তিনি দলীয় এমপিদের পরামর্শ দিয়েছেন।
 

জাপা দলীয় সংসদ সদস্য সেলিমউদ্দিন ‘ইত্তেফাক’কে জানান, আসন্ন পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলোতে কীভাবে দলীয় মনোনয়ন দেয়া হবে সে বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। যেসব এলাকায় জাপার এমপি রয়েছেন, সেখানে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়ে এমপিদের মতামতকে প্রাধান্য দেয়া হবে। যেসব এলাকায় জাপার এমপি নেই সেখানে জেলা কিংবা উপজেলা কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে মনোনয়ন দেয়া হবে বলে সবাই একমত পোষণ করেন।