কোহিনূর ফিরে পেতে আইনের আশ্রয় নিচ্ছে ভারত

আপডেট : ০৯ নভেম্বর ২০১৫, ২০:০৭
 
ভারতের গৌরব কোহিনূর ফিরে পেতে লন্ডনের আদালতে যাচ্ছেন বলিউড তারকরা ও ব্যবসায়ীদের একটি দল। সম্রাট শাহজাহানের ময়ূর সিংহাসনের এই হীরক খণ্ড বহুদিন ধরে ইংল্যান্ডের রানির মুকুটের শোভা বাড়ানোর পর তা ফিরে পেতে এই পথে হাঁটছে ভারত। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক আদালতের দ্বারস্থ হওয়ার কথাও জানিয়েছেন দলটির আইনজীবী।
 
ফার্সি শব্দ কোহিনূর এর নাম অনুযায়ী দলটি নিজেদের নাম দিয়েছেন 'মাউন্টেইন অফ লাইট'। এই 'আলোর পাহাড়' ফেরানোর আইনি পথ খুঁজতে ইতিমধ্যে তারা আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ শুরু করেছেন।
 
১০৫ দশমিক ছয় মেট্রিক ক্যারেটের এই হীরক খণ্ডটি একসময় বিশ্বের সবচেয়ে বড় হীরা হিসেবে পরিচিত ছিল। ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের কল্লুর খনি থেকে এটি উত্তোলন করা হয়। কাটার আগে এর ওজন ছিল সাতশ ৯৩ ক্যারেট। ঔজ্জ্বল্য বাড়াতে পালিশ ও কাটার পর কোহিনূরের ওজন দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ছয় গ্রাম। এর বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ১০০ মিলিয়ন পাউন্ড।
 
হীরক খণ্ডটি বর্তমানে টাওয়ার অব লন্ডনে রক্ষিত আছে। প্রচলিত রয়েছে যে, ঔপনিবেশিক আমলে এটিকে ভারত থেকে 'চুরি করে' ব্রিটেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। ভারতীয় দলটির দাবি, ব্রিটিশ সরকারকে এখন এটিকে তার আসল মালিকের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে।
 
মুঘলদের হাতছাড়া হওয়ার পর নানা হাত ঘুরে ওই হীরা ব্রিটিশদের হাতে যায়। ১৮৫০ সালে ভারতের পাঞ্জাব ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসার পর সেখানকার সর্বশেষ শাসক দুলীপ সিং রানি ভিক্টোরিয়াকে কোহিনূর 'উপহার' দেন বলে ব্রিটিশ গণমাধ্যম ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে।
 
ওই দলে থাকা ডেভিড ডি সুজা ইনডিপেনডেন্টকে জানিয়েছেন, ভারতের অনেক ঐতিহাসিক নিদর্শনের মতো কোহিনূরও ব্রিটেনে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। 'ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শক্তি কেবল ভারতের সম্পদ চুরি করেনি, ভারতীয়দের চেতনাকেও ধ্বংস করে গেছে,' বলেন এই ব্যবসায়ী।
 
বলিউড তারকা ভূমিকা সিং বলেন, 'কোহিনূর কেবল ১০৫ ক্যারেটের এক টুকরো পাথর নয়, এটা আমাদের ইতিহাস, আমাদের সংস্কৃতির অংশ; এটা অবশ্যই ফিরিয়ে দিতে হবে।'