কুমিল্লার দেবিদ্বারে আব্দুর রশিদ (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে কুপিয়ে হত্যার পর তিনদিন পর তার লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এই ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে শাহজাহান (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয় জনতা। মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় জেলার দেবিদ্বার ও চান্দিনা উপজেলার সীমান্তবর্তী এলাকা বাগুর গ্রামের একটি বাড়ির শৌচাগার সংলগ্ন স্থান থেকে আব্দুর রশিদের লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত আব্দুর রশিদ ওই গ্রামের মৃত হাজী আব্দুল গফুর এর ছেলে। আটক শাহজাহান একই গ্রামের ফজলু মিয়ার ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের ভাতিজা নাজমুল জানান, গত রবিবার রাত ১২টার দিকে একই গ্রামের নূরুল ইসলাম ও খলিল নামে দুই ব্যক্তি তাকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে আসে। তারপর থেকে সে বাড়িতে না ফেরায় বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুজি শুরু করে তার পরিবার।
আজ সকাল থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক সংলগ্ন বাগুর খাল পাড়ের সীমানা প্রাচীর ঘেরা নির্জন একটি বাড়ির সামনে শাহজাহান নামে এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ী ঘুরাঘুরি করার সময় নিহতের স্বজনরা বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখে শাহজাহানের উপর দৃষ্টি রাখতে শুরু করে।
দুপুর দুইটার দিকে শাহজাহান সীমান ঘেরা ঐ বাড়ির ভিতর প্রবেশ করে টিনসেট শৌচাগারের পাশের একটি কৃত্রিম ঝোঁপে দিকে যায়। এসময় এলাকার লোকজন ঐ বাড়িতে গেলে শাহজাহান পালানোর চেষ্টা করে। এসময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাকে আটক করে এবং ঐ কৃত্রিম ঝোঁপে মানুষের মরদেহের কিছু অংশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেয়।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঐ ঝোপ থেকে কাঁথা ও কাপড়ে মোড়ানো আব্দুর রশিদের মরদেহ উদ্ধার করে।
এ ব্যাপারে দেবিদ্বার থানার উপ-পরিদর্শক (এস.আই) সোহেল আহমেদ জানান, নিহতের মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে কোপের দাগ রয়েছে। তাকে কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ গুম করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় বাসিন্দারা শাহজাহান নামে এক ব্যক্তিকে আটক করে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে।
দেবিদ্বার থানার ওসি মিজানুর রহমান জানান, এই ঘটনায় নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি নিচ্ছে।
