মিয়ানমারে নিরঙ্কুশ সংখ্যা-গরিষ্ঠতা পেতে যাচ্ছে গণতন্ত্রপন্থি নেত্রী অং সান সু চির দল ন্যাশনাল ডেমো-ক্রেটিক লীগ (এনএলডি)। সু চি গতকাল ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে জানিয়েছেন, তার দল ৭৫ শতাংশ আসনে জয়ী হবে। আর এর আভাসও পাওয়া যাচ্ছে। দেশটির পার্লামেন্টের উভয় কক্ষেই ঘোষিত ফলাফলে তার দল ব্যাপক ব্যবধানে এগিয়ে আছে। গো হারা হারতে চলেছে সরকারি দল ইউনাইটেড সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি (ইউএসডিপি)। খবর বিবিসি ও রয়টার্সের।
মিয়ানমারের পার্লামেন্ট উচ্চকক্ষ হাউস অফ ন্যাশনালিটিজ (আমিওতা হুলাত্ত) এবং নিম্নকক্ষ হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস (পিথু হুলাত্ত), এই দুই ভাগে বিভক্ত। এর মধ্যে হাউস অফ ন্যাশনালিটিজে ২২৪টি আসন যার মধ্যে ২৫ শতাংশ বা ৫৬টি আসনই সেনা প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত। বাকি ১৬৮টি আসনে নির্বাচন হয়েছে? হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভসে আসন সংখ্যা ৪৪০। এখানেও ২৫ শতাংশ বা ১১০টি আসন সেনা প্রতিনিধিদের জন্য সংরক্ষিত। নির্বাচন হয়েছে ৩৩০টি আসনে।
গতকাল মঙ্গলবার শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত যে ফল পাওয়া গেছে তাতে দেখা গেছে, নিম্নকক্ষের ৮৮টি আসনের ফল ঘোষণা করা হয়েছে এবং এর মধ্যে এনএলডি পেয়েছে ৭৮টি। আর উচ্চকক্ষের ঘোষিত ৩৩টি আসনের মধ্যে ২৯টি আসন পেয়েছে সু চির দল। মাত্র দুটি আসন পেয়েছে ইউএসডিপি। আঞ্চলিক অ্যাসেম্বলিতেও বিপুলভাবে জিততে চলেছে এনএলডি।
বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, অন্তত ৭০ শতাংশ আসনই এনএলডির দখলে যেতে চলেছে। এনএলডির মুখপাত্র উইন হতেইনকে সংবাদমাধ্যমের কাছে খুশিতে মশগুল হয়ে বলতে শোনা গেছে, এবার তারা পরাজয় স্বীকার করে নিয়ে ক্ষমতা ছেড়ে দিক। তবে ইতোমধ্যে সোমবারই পরাজয় স্বীকার করে নিয়েছে ইউএসডিপি। ফল ঘোষণা শুরু হওয়ার এক ঘণ্টা পর সেনাসমর্থিত ইউএসডিপি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হোতাই উ পরাজয় স্বীকার করে নেন।
১৯৯০ সালে অং সান সু চির দল নির্বাচনে জয় পেলেও ক্ষমতা ধরে রাখে সামরিক বাহিনী। এরপর যুক্তরাষ্ট্র মিয়ানমারের ব্যাংক, এয়ারলাইন্স, কোম্পানি, হোটেল ছাড়াও বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। ১৯৬০ সালের পর দেশটিতে এই প্রথম কোনো গণতান্ত্রিক সরকার ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে।
