বিশ্বব্যাপী প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত ডায়সন ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যাওয়ার্ডের এবারের আয়োজনে সেরাদের সেরার পুরস্কার জিতে নিয়েছে কানাডার ইউনিভার্সিটি অব ওয়াটারলুর একদল শিক্ষার্থী। তারা এমন একটি প্রিন্টার তৈরি করেছে, যেটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে একটি কর্মক্ষম সার্কিট বোর্ড তৈরি করতে পারে। ভলটেরা ভি-ওয়ান নামের এই প্রিন্টারটির আকার একটি ল্যাপটপের সমান।
এই প্রিন্টারে মূলত দুইটি ভিন্ন ধরনের ‘ইংক’ বা কালি ব্যবহার করা হয়। এদের একটি বিদ্যুত্ পরিবাহী এবং অন্যটি অন্তরক। এই দুই ধরনের কালির মাধ্যমে সার্কিট বোর্ডকে ডিজাইন করা হয়ে থাকে দুইটি স্তরে। এ ছাড়া সার্কিট বোর্ডে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ সহজে স্থাপন করার সুবিধাও রয়েছে ভি-ওয়ান প্রিন্টারে তৈরি সার্কিট বোর্ডে। ডায়সন অ্যাওয়ার্ড প্রতিযোগিতায় এমন ধরনের প্রকৌশল ডিজাইন আহ্বান করা হয় যেগুলো বাস্তব জীবনের নানা প্রায়োগিক সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখতে পারে।
সাধারণভাবে সার্কিট বোর্ড তৈরি বেশ জটিল কাজ হলেও ভলটেরা ভি-ওয়ান এই কাজটিকে অনেক সহজ করে তুলবে এবং বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রনিক শিল্প ও সংশ্লিষ্টদের জন্য তা অনেক বেশি উপকারী হয়ে উঠবে। এ কারণেই এই প্রকল্পকে ডায়সন অ্যাওয়ার্ডের জন্য সেরা হিসেবে নির্বাচন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে অ্যাওয়ার্ড কর্তৃপক্ষ।
এর ফলে এই প্রকল্পের চার শিক্ষার্থী—জেসাস জোজায়া, অ্যালরয় অ্যামেইডা, জেমস পিকার্ড ও ক্যাটারিনা ইলিক জিতে নিয়েছেন ৪৫ হাজার ডলার (প্রায় ৩৫ লাখ টাকা)। এর পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের লিমেরিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাথাল রেডমন্ডের এক্সপ্রেস ডাইভ এবং তাইওয়ানের চুং হুয়া ইউনিভার্সিটির ওয়েই-লুন হুয়াং হুই-হুয়াং সাইয়ের গ্রিন ফেয়ারি ডায়সন অ্যাওয়ার্ডের রানার-আপ পুরস্কার জিতে নিয়েছে।
এর মধ্যে এক্সপ্রেস ডাইভ এমন একটি কিট যা স্কুবা ডাইভের প্রায় এক-দশমাংশ খরচে পানির নিচে দীর্ঘ সময় থাকার সুবিধা প্রদান করবে। আর গ্রিন ফেয়ারি নদী বা জলদেশের মাছ ও প্রাণিকূলের জন্য সহায়ক হবে।
