বিহার নির্বাচনে বিজেপির শোচনীয় ভাবে পরাজিত হওয়ার তিন দিনের মধ্যে লাল কৃষ্ণ আদভানি সহ দলের সিনিয়র নেতাদের সমালোচনার মুখে পড়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও দলটির সভাপতি অমিত শাহ। বিহারে ২৪৩ টি আসনের মধ্যে মাত্র ৫৩ টি আসন পাওয়া বিজেপির এত খারাপ ফলাফলের একটি পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
মঙ্গলবার বিকেলেই বিহারের হারে পর্যুদস্ত মোদী-শাহ জুটিকে বাঁচাতে দল জানায়, দলীয় মুখপাত্র ছাড়া বিহার নিয়ে কেউ মুখ খুলতে পারবেন না৷ আসলে এটা ছিল আদভানিদের থামানোর শেষ চেষ্টা৷ তার আগেই দল জেনে গিয়েছিল, সিনিয়রদের কাছ থেকে অত্যন্ত অস্বস্তিকর বিবৃতি আসতে চলেছে৷ কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি৷ তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিবৃতি দেন লালকৃষ্ণ আদভানি, মুরলী মনোহর যোশী, যশবন্ত সিনহা এবং শান্তা কুমার৷ যোশীর বাড়িতে তা ঘোষণা করা হয়৷
২০১৪ সালে প্রধানমন্ত্রী হওয়া নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বের প্রতি সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সিনিয়র নেতারা বিবৃতিতে বলেছেন যে বিজেপি দিল্লিতে আম আদমি পার্টির কাছে শোচনীয় ভাবে পরাজিত হওয়ার ঘটনা থেকে কিছুই শেখেনি। সিনিয়র এই নেতারা মোদী ও অমিত শাহের প্রতি বিহারের পরাজয়ের দায়িত্ব নেওয়ার জন্য আহবান জানিয়েছেন। মোদী ও তার ডান হাত অমিত শাহের প্রতি ইঙ্গিত করে বলা হয়, হারের কারণ পর্যালোচনা করে দেখতে হবে৷ যারা বিহারে প্রচার ও ম্যানেজমেন্টের দায়িত্বে ছিলেন, তাঁরা এই পর্যালোচনা করতে পারবেন না৷ আর দলকে জোর করে কয়েক জন কুক্ষিগত করে রেখেছে এবং এটা নিয়েও পর্যালোচনা করতে হবে৷
IMG0
এই বিবৃতিটা এমন এক সময়ে আসলো যখন ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন বিহারের পরাজয়ের জন্য মোদী ও রাষ্ট্রীয় শিব সেনার নেতা মোহন ভগবৎ দায়ী নন। অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছিলেন যে, অমিত শাহকে বিজেপি সভাপতি পদ থেকে সরানোর কোনো প্রয়োজন নেই কারণ তার নেতৃত্বে বিজেপি মহারাষ্ট্র, হরিয়ানা ও ঝাড়খন্ডে লোকসভা নির্বাচনে দলকে জয় এনে দিয়েছেন।
কিন্তু রোববার বিহারে নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকে বিজেপিতে মোদী-শাহ বিরোধী কণ্ঠটাই বেশি শোনা যাচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার, বিহারের পঞ্চম বিজেপি এমপি হিসেবে পরাজয়ের দায় মোদীর ঘাড়ে চাপিয়েছেন ভোলা সিং। এই সংসদ সদস্য বলেছেন, মোদী ও দলের অন্য নেতাদের নির্বাচনী প্রচারণার সময়ে অসংসদীয় ভাষার ব্যবহার বিজেপির ক্ষতি হয়েছে। তিনি আরো বলেছেন, গরুর মাংস ও বিহারে বিজেপি পরাজিত হলে পাকিস্তানে ‘আতশবাজি উৎসব’ হবে এই ধরণের কথা বলার কোনো যুক্তিই ছিল না। এর সবকিছুই আমাদের পরাজয়ের জন্য দায়ী।
বিজেপি ১৯৮৪ সালে লোক সভায় মাত্র দুইটি সিট পেয়েছিল। সেখান থেকে আজকের অবস্থানে দলকে নিয়ে আসার কৃতিত্ব দেওয়া হয় লাল কৃষ্ণ আদভানিকে। কিন্তু মোদী নির্বাচনী প্রচারণা কমিটির দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আদভানিকে সরিয়ে রাখা হচ্ছে। মঙ্গলবার রাতে অবশ্য মোদী-অমিত শাহের পক্ষে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন তিন সাবেক বিজেপি সভাপতি ও বর্তমানে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্তরা। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিং, সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী ভেনকাইয়া নাইড়ু ও জনপথ মন্ত্রী নিতিন গাদকারি এক বিবৃতিতে বলেন, আমরা দলের সিনিয়র নেতাদের দেওয়া বিবৃতিটা পড়েছি। অবশ্যই দলের সব সদস্য বিহারের পরাজয় নিয়ে চিন্তিত। এর আগে দল ঝাড়খণ্ড, হরিয়ানা মহারাষ্ট্র, জম্মু ও কাশ্মীরে জিতেছি। সাম্প্রতিক সময়ে আমরা কর্ণাটক, আন্দামান, কেরালা ও আসামে জিতেছি।
বিজেপির বর্তমান নেতৃত্ব বিবৃতিতে বলেছে তারা অটল বিহারী বাজপেয়ী ও আদভানিদের মতো নেতাদের থেকে কয়েক দশক ধরে দিক নির্দেশনা পাওয়ার জন্য নিজেদের ভাগ্যবান মনে করেন। এবং জয় পরাজয়ে দলের জ্যেষ্ঠদের কাছ থেকে পরামর্শ ও দিকনির্দেশনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।
