অনুপ চেটিয়ার ৬ দিনের রিমান্ড

আপডেট : ১৩ নভেম্বর ২০১৫, ১১:১১
বাংলাদেশ থেকে হস্তান্তরের পরদিন হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের অনুমতিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতা অনুপ চেটিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হেফাজতে নিয়েছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা-সিবিআই। বৃহস্পতিবার নয়া দিল্লির একটি আদালত তার ছয় দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
 
বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার অনুপ চেটিয়াকে বিশেষ আদালতে হাজির করে রিমান্ড আবেদন জানায় সিবিআই। পরে আদালত ছয়দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে।
 
এতে বলা হয়েছে, উলফা নেতা অনুপ চেটিয়ার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি ছিল। ভারতে ইন্টারপোলের প্রতিনিধিত্ব করে সিবিআই। সে কারণেই বৃহস্পতিবার তাকে বিশেষ আদালতে হাজির করে সিবিআই। পরে রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ছয়দিনের ট্র্যান্সিট রিমান্ড মঞ্জুর করে বিশেষ সিবিআই আদালত। এখন চেটিয়াকে দিল্লি থেকে গুয়াহাটি নিয়ে যাওয়া হবে।
 
অনুপ চেটিয়া এর আগে ১৯৯১ সালে প্রথমবার গ্রেফতার হন কলকাতার একটি গেস্ট হাউস থেকে। সে সময় তাকে আসামে নেওয়ার পর তিনি সরকারের সঙ্গে শান্তি আলোচনা শুরু করেন। তবে চেটিয়া সরকারকে এটাও বোঝান যে, উলফার অন্য নেতাদের আলোচনায় নিয়ে আসতে হলে তার জামিন পাওয়া দরকার।
 
এরপর ভারত সরকার অনুপ চেটিয়াকে জামিনে ছেড়ে দেয়ার পরেই তিনি বাংলাদেশে পালিয়ে আসেন। ১৯৯৭ সালে ধরা পড়েন। সে সময় জাল পাসপোর্ট ও বেআইনিভাবে বাংলাদেশে প্রবেশের অভিযোগে অনুপ চেটিয়া ওরফে গোলাপ বড়ুয়ার সাত বছরের কারাদণ্ড হয়।
 
এরপর অনুপ চেটিয়া বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার অনুমতি চেয়ে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন তিন দফায়। কিন্তু প্রতিবারই তার আবেদন খারিজ হয়।
 
পরে অনুপ চেটিয়া মত বদলে উলফা আর ভারত সরকারের মধ্যে চলতে থাকা শান্তি আলোচনায় অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন। শান্তি আলোচনায় অংশ নেয়া উলফা নেতারাও আবেদন করেন দেশে ফিরিয়ে এনে শান্তি আলোচনায় বসানো হোক তাদের প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদককে।
 
এরপরই শুরু হয় তাকে ভারতে ফেরানোর প্রক্রিয়া। অবশেষে বুধবার ভোরে ঢাকার কাশিমপুর কারাগার থেকে ছেড়ে দেয়া হয় চেটিয়াকে। পরে বেনাপোল-পেট্রাপোল সীমান্ত পার করিয়ে কলকাতা হয়ে বুধবারই দিল্লি নিয়ে যাওয়া হয় তাকে।