পেন্টাগন জানিয়েছে, দক্ষিণ চীন সাগরে বিতর্কিত এলাকায় চীনের নির্মাণাধীন কৃত্তিম দ্বীপ স্প্রেটলির পাশ দিয়ে উড়ে গেছে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি ইউএস বি-৫২ বোমারু বিমান। চীনের হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও সেখানে তাদের মিশন অব্যাহত আছে। খবর বিবিসির।
আগামী সপ্তাহে একটি শীর্ষ সন্মেলনে যোগ দিতে ম্যানিলায় যাচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। সেখানে চীনের প্রেসিডেন্টও অংশ নেবেন। আশা করা হচ্ছে—সে সময় এ ব্যাপারে তাদের মাঝে কোনো আলোচনা হবে। সামুদ্রিক জলসীমা নিয়ে প্রতিবেশী কয়েকটি দেশের সাথে চীনের বিরোধ চলছে। চীন খনিজ সম্পদে সমৃদ্ধ দক্ষিণ চীন সাগরের বেশির ভাগ অংশের মালিকানা দাবি করছে এবং সেখানে কয়েকটি কৃত্তিম দ্বীপ তৈরি করছে। যুক্তরাষ্ট্র চীনের এই দাবির বিরোধীতা করে আসছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলছে—তারা সাগরপথে তাদের নৌ-চলাচলে স্বাধীনতা বজায় রাখতে বদ্ধপরিকর এবং তা তারা প্রদর্শন করছে। পেন্টাগনের মুখপাত্র বিল আরবান বলেন, রবিবার স্প্রেটলি দ্বীপের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান টহল ছিল নিয়মিত টহলের অংশ। দ্বীপের পাশে সমুদ্রে যতটুকু এলাকা চীন দাবি করে, সেখানে প্রবেশ করেনি যুক্তরাষ্ট্রের বিমান। তবু তাদের বিমানকে দুইবার সতর্ক করেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের বিমান আন্তর্জাতিক আইন মেনেই টহল দিয়েছে। গত মাসে স্প্রেটলি দ্বীপপুঞ্জের ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে প্রবেশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে অবৈধ ও উস্কানিমূলক বলেছিল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা রয়টার্সকে বলেন, ‘তিন মাসে অন্তত দুই বার এ ধরনের টহল দেয়া হবে।’
২০১৪ সালে দক্ষিণ চীন সাগরের স্প্যার্টলি দ্বীপমালার সুবি ও মিসচিফ শৈলশ্রেণি দুটিতে বালু ফেলে একটি দ্বীপ তৈরি করে চীন। এ এলাকাটি বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত সমুদ্র-বাণিজ্য পথগুলোর অন্যতম। গুরুত্বপূর্ণ ওই এলাকাটির ওপর চীনের একচ্ছত্র মালিকানার দাবিকে চ্যালেঞ্জ জানাতেই যুক্তরাষ্ট্র সেখানে নিয়মিত টহলের ব্যবস্থা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র জানিয়ে দিয়েছে—সমুদ্রে তাদের স্বাধীনতার যে নীতি তা অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মাসে স্প্রেটলি দ্বীপপুঞ্জের ১২ নটিক্যাল মাইলের মধ্যে প্রবেশ করেছিল যুক্তরাষ্ট্রের একটি যুদ্ধজাহাজ। চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ঘটনাকে অবৈধ ও উস্কানিমূলক বলেছিল।
