সিরিয়া সংকট নিয়ে একমত হয়েছেন ওবামা-পুতিন

আপডেট : ১৬ নভেম্বর ২০১৫, ২৩:৩২

সিরিয়ায় আসাদ সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে বৈঠকের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে এক্ষেত্রে মধ্যস্ততায় থাকতে হবে জাতিসংঘকে। হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র জানান, তুরস্কের আন্তালিয়ায় জি-২০ সম্মেলনের সাইডলাইনে এক বৈঠকে দুই নেতা এই সম্মতি দেন। ৩৫ মিনিটের ওই বৈঠকে দুই নেতা বলেন, সিরিয়ায় বাশার আল আসাদের সরকার ও বিদ্রোহীদের মধ্যে শান্তি আলোচনা দরকার। এর আগে যুদ্ধ বিরতি জরুরি। সিরিয়া ছাড়াও প্যারিসে হামলা, আই-এস দমন ও মিসরে রাশিয়ার বিমান বিধ্বস্তের বিষয়েও আলোচনা করেন ওবামা ও পুতিন। অন্যদিকে, জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানত:বানিজ্য এবং জলবায়ু পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা হবার কথা থাকলেও প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলা প্রেক্ষিতে আইএস জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের বিষয়টি মুখ্য হয়ে উঠেছে। খসড়া এক বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বলেছেন, আমরা, কঠোরতম ভাষায় প্যারিসের সন্ত্রাসী হামলায় ধিক্কার জানাচ্ছি-গোটা মানব সমাজের কাছেই এটা গ্রহণযোগ্য নয়। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে রূখে দাঁড়ানোর দৃপ্ত প্রত্যয় ব্যক্ত করছি। খবর:সিএনএন।

 
সিরিয়া-নীতি নিয়ে আমেরিকা এবং ইউরোপের সঙ্গে পুতিনের স্পষ্ট বিরোধ আছে। তবে তুরস্কের ভুমধ্যসাগরবর্তী সৈকত-নিবাস আন্তালিয়ায় অনুষ্ঠিত ঐ শীর্ষ সম্মেলনের বাইরে বৈঠকে ওবামা এবং পুতিন একমত হয়েছেন যে, সিরিয়ায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি প্রয়োজন। তার পরে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ এবং বিরোধীদের মধ্যে শান্তি-আলোচনা শুরু হওয়া দরকার। আর অন্যদিকে আইএস-কে সমূলে নির্মূল করা ছাড়া উপায় নেই।সিরিয়ায় পুতিনের সঙ্গে অন্যদের বিরোধ আসাদকে ঘিরেই। আগামী বছরে আসাদকে ভোটে দাঁড় করানোর জন্য চেষ্টা চালাচ্ছেন পুতিন। কিন্তু আমেরিকা এবং ইউরোপ আসাদকে স্বৈরতন্ত্রী এবং যুদ্ধাপরাধী বলে মনে করে। আইএসের বিরুদ্ধে তাদের পুরোদমে অভিযানে না-নামার পিছনে এই মনোভাবই অনেকটা দায়ী। কারণ পশ্চিমা শক্তিধর দেশগুলো চায় না, আসাদের হাত কোনোভাবে শক্ত হোক। ওবামা এখনো পর্যন্ত ইরাক এবং সিরিয়ায় স্পেশাল ফোর্সের কিছু ছোট দল পাঠিয়েছেন। তারা সিরিয়ার বিদ্রোহী শক্তি এবং কুর্দিদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। সিরিয়া নিয়ে এই দোটানার মধ্যে আইএস ক্রমশ তাদের শক্তি বাড়াচ্ছে।
 
কিন্তু প্যারিস হামলার পর এখন আর হাত গুটিয়ে বসে থাকার যে সময় নেই সেটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় অনুভব করতে শুরু করেছে। যুক্তরাষ্ট্রেই ওবামার উপর চাপ বাড়ছে। সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্যারিসে সন্ত্রাসী হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এ হামলা ছিলো সভ্য জগতের ওপর পরিচালিত হামলা। হামলাকারী-হত্যাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে যুক্তরাষ্ট্র ফ্রান্সকে সহায়তা দেবে। ইসলামিক স্টেটকে (আইএস) নির্মূল করতে চেষ্টা আমরা দ্বিগুণ বাড়িয়ে তুলবো। অন্যদিকে, পুতিন শুরু থেকেই আইএসের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযান চালানোর পক্ষপাতী। সেপ্টেম্বর মাস থেকে সিরিয়ার বিমান অভিযান শুরু করেছে রাশিয়া। এর জবাবে গত ৩১ অক্টোবরই একটি  যাত্রিবাহী রুশ বিমানে আঘাত হানার দায় স্বীকার করেছে আইএস।
 

এদিকে বিশ্লেষকরা বলছেন, প্যারিসের সন্ত্রাসী হামলার পর পুতিন তাঁর কূটনৈতিক অবস্থান আরো শক্ত করে ফেলেছেন। সিরিয়াতে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইউরোপ যে ‘ভুল’ করেছে, সেটা প্রমাণ করার বড় সুযোগ পেয়েছেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, আইএসের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক শক্তিকে যে একযোগেই লড়তে হবে, প্যারিস তা দেখিয়ে দিল। প্যারিস হামলা ‘সিরিয়ার প্রতিশোধ’ বলে দাবি করেছে আইএস জঙ্গিরাই। তুরস্কেও আইএস ইতিমধ্যেই দু-দু’টি বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে।