ব্ল্যাকমেইলারের টাকা যোগার করতে অপহরণ নাটক!

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৫, ০৯:১৩
 
ব্ল্যাকমেইলকারীর দাবি করা টাকা যোগাড় করতে পিতা মাতার সঙ্গে অপহরণ নাটক সাজিয়ে নিজেই পুলিশের হাতে ধরা খেল কিশোর নাইম হোসেন (১২)।  ঘটনাটি রবিবার গাংনী উপজেলার দেবীপুর গ্রাম বেশ আলোচনার সৃষ্টি করে। নাঈম কৃষক জালাল উদ্দীনের ছেলে ও স্থানীয় দেবীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র।
 
দিনভর অপহরণ নাটক সাজিয়ে সোমবার সন্ধ্যায় গাংনী উপজেলা শহরের আমিরুল সুপার মার্কেটের একটি বিকাশ এজেন্টে মুক্তিপণের টাকা নিতে এসে গাংনী থানা পুলিশের হাতে আটক হয় নাইম। এ সময় তার কাছে থাকা মোবাইল জব্দ করা হয়েছে।
 
আটক নাইম হোসেনের বরাত দিয়ে গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) মোক্তার হোসেন জানান, নাইম হোসেনের একটি উলঙ্গ ছবি নিয়ে একই গ্রামের আয়ূব আলীর ছেলে ও নাইমের ক্লাসের সহপাঠি বশির হোসেন বেশ কিছুদিন যাবৎ ব্লাকমেইল করে আসছে। এ ছবি ও অপর একজন বান্ধবীর ছবি মোবাইলে এডিট করে একত্রে ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে আসছিল বশির। দাবি করা বিশ হাজার টাকা পরিশোধ করতে পারলে নাইমের সেই ছবি ডিলিট করে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেয় বশির। কিন্তু এক যোগে ২০ হাজার টাকা দিতে না পারার কারণে বন্ধু বশির হোসেনের বুদ্ধিতেই নিজেকে অপরণ নাটক সাজিয়ে এ টাকা পরিশোধ করার চিন্তা করে নাইম।
 
এদিকে ছেলে অপরণের খবর পেয়ে পিতা-মাতা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ে। সন্তানের জীবন বাঁচাতে বিকালের মধ্যেই ১০ হাজার টাকা সংগ্রহ করে নাইম হোসেনের পরিবারের লোকজন। পরে গাংনী বাজারে টাকা বিকাশে প্রেরনের জন্য আসে। এর আগে পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় গাংনী থানা পুলিশকে জানানো হয়। পরে বিকাশ এজেন্টের কাছ থেকে টাকা নিতে আসবে এমন সংবাদে গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) মোকতার হোসেন আগে থেকেই বিকাশ এজেন্টের আশে পাশে অবস্থান নেন।
 
এক সময় নাইম হোসেন তার বড় ভাই জাকিরের নামে বিকাশ এজেন্ট থেকে টাকা তুলতে আসলে পুলিশ তাকে আটক করে থানায় নেন।
 
গাংনী থানার ওসি (তদন্ত) মোক্তার হোসেন জানান, যেহেতু শিশুটি অপ্রাপ্ত বয়স্ক। তাই ভালোভাবে জেনে শুনে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ ছাড়া অপর দুজনকে আটক করতে পুলিশের একটি টীম ওই গ্রামে বশির হোসেন ও মুন্না নামের দুই কিশোরকে আটক করতে অভিযান চালাচ্ছে।