ভাড়া করা হ্যাকার দিয়ে হ্যাকিং করিয়ে শাস্তি পাচ্ছেন দুই ইসরাইলি ও এক মার্কিন নাগরিক। সম্প্রতি সাইবার প্রতারণা মামলায় তাদের অভিযুক্ত করেছে মার্কিন আদালত। সরাসরি নিজেরা অংশ না নিয়ে 'আউটসোর্সিং' কায়দায় ভাড়াটে হ্যাকার নিয়োগ দিয়ে তারা নানা সাইবার অপরাধ ঘটাতো বলে জানিয়েছে আদালত।
মার্কিন প্রতিষ্ঠান জেপিমরগানসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানে সাইবার হামলার মূল হোতা হিসেবে অভিযোগ রয়েছে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে। এ ছাড়াও শেয়ার বাজারে সাইবার প্রতারণা আর অবৈধ বিটকয়েন লেনদেনের অভিযোগ আছে ওই তিনজনের বিরুদ্ধে জানিয়েছে। রয়টার্স।
এফবিআইয়ের নিউ ইয়র্ক সাইবার ডিভিশনের সাবেক অ্যাসিস্ট্যান্ট স্পেশাল এজেন্ট অস্টিন বার্গলাস মে মাস পর্যন্ত ওই মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। তিনি বলেন, 'তাদের সঙ্গে আরও ষড়যন্ত্রকারী ছিল এবং এটা নিশ্চিত যে তারা ভাড়াটে হ্যাকার নিয়োগ দিয়েছিল।'
শেয়ার বাজারে জালিয়াতি করতে পেনিস্টকডিসকভারিস ডটকম আর স্টকক্যাসল ডটকম নামের দুটি ওয়েবসাইট ব্যবহার করে মেইল পাঠাতো ওই তিন ব্যক্তি। নিজেদের কেনা শেয়ারের দাম বাড়াতে তারা ভুয়া তথ্য ছড়াতো বলে জুলাই মাসের এক মামলায় উল্লেখ করা হয়।
হ্যাকার নিয়োগ করতে ওই তিন ব্যক্তি রুশ ভাষার কম্পিউটার ফোরাম ব্যবহার করতো বলে জানিয়েছেন আইন প্রণয়নকারী আর কম্পিউটার নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মকর্তারা। ওই ফোরামে দক্ষ হ্যাকাররা তাদের সেবার বিজ্ঞাপন দিয়ে থাকেন। কম্পিউটার ও নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা সেবাদাতা মার্কিন প্রতিষ্ঠান আরএসএ সিকিউরিটির তত্ত্বাবধায়ক ডেনিয়েল কোহেন বলেন, 'এখানে যে কোনো কাজের জন্য আপনি যা চান তাই পাবেন। হ্যাকার, সার্ভার, সফটওয়্যার, কোড রাইটিং। সব কিছুই পাওয়া যায়।'
হ্যাকারদের দেওয়া কাজের জটিলতার উপর নির্ভর করতো তাদের পারিশ্রমিকের পরিমাণ। তবে কীভাবে ভাড়াটে হ্যাকারদের এই অর্থ দেওয়া হত সে বিষয়ে কিছু জানায়নি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। বড়সড় কারিগরি চ্যালেঞ্জের কাজগুলো করলে হ্যাকাররা লাভের কিছু অংশ কমিশন হিসেবে পেতেন। আর সাধারণ কাজে তাদের ঘন্টা হিসেবে বা প্রতি কাজে কয়েক হাজার ডলার দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা। বিডি নিউজ।
