'রাহুল গান্ধী লন্ডনের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন সংক্রান্ত কাগজপত্রে নিজেকে ব্রিটিশ নাগরিক উল্লাখ করেছেন'- এমন অভিযোগে ভারতে তার নাগরিকত্ব বাতিলের দাবি তুলেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির এক নেতা।
তবে কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট রাহুল গান্ধীর বিরুদ্ধে আনা এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। দলটির মুখপাত্র জানায়, বিহার নির্বাচনে পরাজয়ের হতাশা ও বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের বিভেদই ফুটে উঠেছে এ অভিযোগে।
বিজেপি নেতা সুব্রমনিয়ন স্বামী ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাছে এ সংক্রান্ত প্রমাণপত্রসহ চিঠি দিয়ে ৪৫ বছর বয়সী রাহুল গান্ধীর সংসদ সদস্য পদ বাতিলের দাবি জানান সোমবার। এ প্রসঙ্গে এনডিটিভি তার প্রতিবেদনে জানায়, বিজেপি নেতা সুব্রমনিয়ন যে প্রমাণপত্র উপস্থাপন করেছেন তাতে উল্লেখ রয়েছে, যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান 'ব্যাকঅপস লিমিটেডের' বার্ষিক রিটার্নে নিজেকে ব্রিটিশ বলে পরিচয় দিয়েছেন রাহুল গান্ধী। কোম্পানিটির পরিচালক ও সচিব পদে ছিলেন রাহুল গান্ধী। সুব্রমনিয়ন জানান, তিনি ব্রিটেনের কোম্পানি আইন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে এইসব প্রমাণপত্র পেয়েছেন।
এদিকে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে কংগ্রেসের মুখপাত্র রণদীপ সিং সূর্যিবালা জোর দিয়ে বলেছেন, 'রাহুল গান্ধী তার জন্মের দিন থেকেই ভারতীয় নাগরিক এবং সবসময়ই ভারতের পাসপোর্টধারী।'
কংগ্রেসের এই মুখপাত্র এর প্রমাণ হিসেবে কোম্পানিটির ২০০৩ সালের অাগস্টের একটি নথি প্রকাশ করেছেন, যাতে রাহুল গান্ধীকে ভারতীয় বলেই উল্লেখ করা হয়।
এনডিটিভি বলছে, ‘ব্যাকঅপস লিমিটেডের’ ২০০৫ ও ২০০৬ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনে ভারতের সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ছেলে রাহুল তার জাতীয়তা ব্রিটিশ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এমন পরিস্থিতিতে ভারতের কোম্পানি নিবন্ধন সংস্থার সমকক্ষ ব্রিটিশ সরকারের সংস্থা কোম্পানিস হাউজ এর ওয়েবসাইটে ঘেঁটে রাহুল গান্ধীর তথ্যের ব্যাপারে ভিন্নতা পেয়েছে। দেখা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির অন্যান্য স্থানে রাহুলকে ভারতীয় বলা হলেও বার্ষিক রিটার্নে ব্রিটিশ বলা হয়েছে।
কংগ্রেস মুখপাত্র রণদীপ সিং তার ব্যাখ্যায় জানান, ব্রিটিশ সরকার হয়তো একটি ভুল করেছে এবং তা সংশোধনের জন্য তারা ব্রিটিশ সরকারকে জানাবে।
তবে বিজেপির আরেক নেতা সিদ্ধার্থ নাথ সিং বলেছেন, 'এ বিষয়ে কংগ্রেসের জবাব পূর্ণঙ্গ নয়। রাহুল আমেথির সাংসদ ছিলেন এবং হলফনামায় নিজেকে ভারতীয় দেখিয়েছেন। কিন্তু এসব নথি বলছে উল্টো কথা। কংগ্রেসকে এর জবাব দিতে হবে।' বিডি নিউজ।
