‘আইএস হামলার কৌশল পাল্টিয়েছে’

আপডেট : ১৭ নভেম্বর ২০১৫, ১৭:২৯
 
প্যারিস হামলার পর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইসলামিক স্টেট (আইএস) পরিচালিত আক্রমণের ধারা যেভাবে বাড়ছে, তাতে অবস্থাদৃষ্টে ধারণা করা হচ্ছে—জঙ্গি সংগঠনটি তাদের হামলার রণকৌশল পাল্টেছে। এতে বোঝা যায়—মার্কিন নেতৃত্বাধীন জোটের উপর্যুপরি বিমান হামলার কারণে চাপের মধ্যে পড়া আইএস এখন চাইছে, ইউরোপ ও অন্যত্র আক্রমণ পরিচালনা বা অনুপ্রাণিত করতে। খবর বিবিসির।
 
বিবিসির নিরাপত্তা বিশ্লেষক ফ্রাংক গার্ডনার বলছেন, গত প্রায় দুবছর ধরে আইএসের মূল মনোযোগ ছিল মধ্যপ্রাচ্যে তাদের একটি নিজস্ব ভুখণ্ড দখল করা এবং তাতে নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা। রাকা ও মসুলে অবস্থানরত তাদের নেতৃত্বের কাছে এখনো এটাই প্রধান অগ্রাধিকার। এ জন্য তারা ইরাক ও সিরিয়ার বিস্তীর্ণ অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। কিন্তু ইউরোপ ও তার বাইরের উগ্রপন্থী জিহাদিদের মনেও যে তাদের প্রতি একটা আবেদন তৈরি হয়েছে—এ সম্পর্কেও তারা সচেতন। তাই ইসলামিক স্টেটের যে ‘রিক্রুটার’ বা সদস্য-সংগ্রহকারীরা অনলাইনে সক্রিয়, তারা এখন তাদের অনুসারীদের বলছে, সিরিয়ায় এসে যুদ্ধে যোগ দেবার বদলে তারা বরং নিজেদের দেশেই আক্রমণ পরিচালনা করতে পারে।
 
গত জুনে তিউনিসিয়ায় একটি সমুদ্রসৈকতে এক বন্দুকধারীর আক্রমণে ৩৮ পর্যটক নিহত হয়। ইসলামিক স্টেটের দায় স্বীকার করে। তুরস্কের কর্তৃপক্ষ অক্টোবর মাসে আংকারায় যে আত্মঘাতী হামলায় ১০২ জন নিহত হয়, তার জন্যও আইএসকে দায়ী করে। সিনাইয়ের আইএস-সহযোগীরা দাবি করে যে তারাই ২২৪ জন যাত্রী বহনকারী রুশ বিমানটি ভূপাতিত করেছে। এর পর মাত্র কয়েক দিন আগে লেবাননে যে বোমা হামলায় ৪৩ জন নিহত হয়, তারও কৃতিত্ব দাবি করে আইএস।
 
এর পর শুক্রবার রাতে ঘটে প্যারিসের রেস্তোরাঁ, বার ও থিয়েটারে হামলায় ১২৯ জন নিহত হয়। এ সব ঘটনার একটার সঙ্গে অন্যটার ধারাবাহিকতার সুস্পষ্ট প্রমাণ মেলে। ফ্রাংক গার্ডনার বলেন, এগুলো বিচ্ছিন্ন বা একক আক্রমণকারীর কাজ নয়। এর প্রতিটিতেই ব্যাপক পরিকল্পনা, প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ নিতে হয়েছে, অস্ত্র-বিস্ফোরক জোগাড় করতে হয়েছে, আত্মঘাতী হামলাকারী ঠিক করতে হয়েছে। এগুলো অনেকটাই আল-কায়েদার আক্রমণগুলোর মতো।
 
গার্ডনারের মতে—মার্কিন-নেতৃত্বাধীন জোটের বিরামহীন বিমান হামলায় আইএসের একের পর এক নেতা নিহত হচ্ছেন। এতে সংগঠনটি চাপের মুখে আছে। আর এ সব থেকেই জঙ্গি সংগঠনটি তাদের হামলার কৌশল বদলাচ্ছেন। গার্ডনার বলেন, এ সব কারণে কিছু দিনের জন্য ইউরোপে সন্ত্রাসী আক্রমণের অশঙ্কা বেড়ে যাবে।