মুজাহিদের ফাঁসির রায় বহাল, ফরিদপুরে আনন্দ মিছিল

আপডেট : ১৮ নভেম্বর ২০১৫, ১৭:৩০
 
 
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ফাঁসির রায় পুনর্বিবেচনার (রিভিউ) আবেদন আপিল বিভাগে খারিজ হওয়ায় খুশি ফরিদপুরের সর্বস্তরের মানুষ। এবার তাদের দাবি দ্রুত রায় কার্যকরের।
 
রায় বহাল রাখার ঘোষণা পৌঁছানোর পরপরই ফরিদপুরে আনন্দ মিছিল বের করে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ ও স্বেচ্ছাসেবকলীগ। সরকারী রাজেন্দ্র কলেজ থেকে মিছিলটি বের হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে ফরিদপুর প্রেসক্লাব চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে নেতাকর্মীরা একে অপরকে মিষ্টি খাইয়ে আনন্দ প্রকাশ করেন।
 
মুজাহিদের মামলার সাক্ষি বাবু নাথ বলেন, রায় বহাল রাখায় তিনি অত্যন্ত খুশি। এখন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব রায়ে বাস্তবায়ন দেখে যেতে চাই। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, শেখ হাসিনা আমাদের কথা দিয়েছিল দেশের মাটিতে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হবে, তিনি কথা রেখেছেন।
 
রাবু নাথের মেয়ে কেয়া দেবনাথ বলেন, বাবা মুজাহিদের বিরুদ্ধে সাক্ষি দেয়ার কারণে আমরা সবসময়ই একটা আতঙ্কের মধ্যে থাকি, ওদের ফাঁসি না হওয়া পর্যন্ত এই আতঙ্ক থাকবে আমাদের। রায়ে খুশি হয়েছেন জানিয়ে তিনিও দ্রুত এই রায়ের বাস্তবায়ন দেখতে চান।
 
ফরিদপুর ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খোকন বলেন, আলবদর বাহিনীর শীর্ষ কমান্ডার আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ শুধু ফরিদপুরের জন্য নয় পুরো দেশের জন্য, জাতির জন্য কলঙ্ক। ঘোষিত রায় বাস্তবায়ন হলে ফরিদপুর, দেশ ও জাতি এই কলঙ্কমুক্ত হবে।
 
মুক্তিযোদ্ধা আবু ইউসুফ সিদ্দিক পাখি বলেন, এদের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে। এদের রায় বাস্তবায়ন হলে দেশে জঙ্গি তত্পরতা থাকবে না। প্রফেসর আবুল কাশেম বলেন, ফরিদপুরে শীর্ষ চার জন যুদ্ধাপরাধী ছিল, যার মধ্যে তিন জনের বিচার কার্য ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে, চতুর্থজন মুজাহিদের বিচার সম্পন্ন হওয়ার মধ্য দিয়ে বঙ্গবন্ধুর ফরিদপুরের সর্বস্তরের মানুষ কলঙ্কমুক্ত হবে।